পশ্চিম বঙ্গ ভারতের সব থেকে বেশী হিংসা কবলিত রাজ্য। কাশ্মীর এবং উত্তর-পূর্বের সন্ত্রাসকে হার মানিয়েছে পশ্চিম বঙ্গের রাজনৈতিক সন্ত্রাস। রাজনৈতিক পরিবর্তন এই রাজ্যে অবশ্যই আসছে-কিন্ত আসছে না উন্নয়ন, শান্তি এবং সমৃদ্ধি। অত্যাচারী এবং স্বৈরাচারীরা জামাকাপড় বদলের মতন পার্টি বদল করছে। কিন্ত রাজবেশ পালটালেই কি আর কংসরাজরা বদলাবে? তাই পরিবর্তন আসছে এটা যেমন আশার কথা-কিন্তু ঠিক কি পরিবর্তন আসছে-সেখানে শুধুই একরাশ নৈরাশ্য।
তাই একটি নাগরিক মঞ্ছ পশ্চিম বঙ্গে ভীষনভাবে দরকার। যা হবে অরাজনৈতিক। জনগনের অভাব অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক পার্টি গুলির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারবে। আমাদের রাজ্যের অধিকাংশ লোক আজও দেশ এবং দেশের লোককে পার্টির চেয়ে বেশী ভালবাসে। কিন্ত তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণের কুম্ভীপাকে রাজ্যের জনগনের সামনে অধিকাংস সময় বিকল্প পথ খোলা থাকে না। জনচেতনা মঞ্চ সেই অভাব দূর করবে। রাজ্যকে হিংসামুক্ত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা ভীষন ভাবেই দরকার। পার্টির ওপরে রাজ্য এবং রাজ্যবাসী-এই চেতনার বৃদ্ধি আজ সর্বত্র দরকার পশ্চিম বঙ্গে।
তাই এই নতুন নাগরিক মঞ্চ গড়ার কাজে এগিয়ে এসেছেন সইফুদ্দিন চৌধুরী, প্রাত্তন স্পীকার সোমনাথ চ্যাটার্জি, বিশিষ্ঠ অর্থনীতিবিদ অম্লান দত্ত এবং আরো অনেক বিশিষ্ঠ নাগরিক। খুব শীঘ্রই মঞ্চের কর্মসূচী এবং কমিটি গঠন করা হবে।
আপনারা যারা এই উদ্যোগে যোগ দিতে চান-তারা এই ফোরামে যোগ দিয়ে আপনাদের মতামত জানান।
http://groups.google.com/group/janachetanamancha
Sunday, November 22, 2009
Tuesday, October 20, 2009
মাওবাদ এবং ভারতের ভবিষ্যত
সাঁকরাইল থানায় যেদুজন পুলিশ মারা গেলেন মাওবাদিদের হামলায় এবং যে ও সি আজ বা কাল কোতল হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন-তাদের মৃত্যুর জন্যে দায়ী কে?
রাষ্ট্র? সিপিম? মাওবাদি?
নানান ফোরামে ঘুরলে দেখা যাবে সিপিএম মাওবাদিদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছড়াচ্ছে-নক্সালরা সিপিম আর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে-দক্ষিন পন্থীরা আবার মাওবাদি এবং সিপিএম উভয়কেই দুষছেন। বৃত্তাকারে স্তূপীকৃত হচ্ছে দোষারোপ। কিন্ত বাস্তবটা কি?
এককচিত্র বা খন্ডচিত্র শুধুই গোলক ধাঁধা। মাওবাদিরা দড়জায় কড়া নাড়ছে এব্যাপারে সন্দেহ নেই। এসব আলোচনাতে যা ভুলে যাওয়া হচ্ছে
(১) ভারতের সবচেয়ে দরিদ্র ক্লিষ্ট জঙ্গল রাজ্যেগুলিতে মাওবাদিদের ঘাঁটি
(২) ২৮ টির মধ্যে ২২ টি রাজ্যে মাওবাদিরা সক্রিয় -এর মধ্যে চারটি রাজ্যে তারাই সমান্তরাল প্রশাসন চালাচ্ছে ( তোলাবাজি বা ট্যাক্সেশন পর্যন্ত)
(৩) সালোয়া জুডুম, সেনাবাহিনী-কোবরা--কোন কিছু দিয়েই তাদের দমানো যাচ্ছে না। তাদের শক্তি বৃদ্ধি হচ্ছে উত্তোরোত্তর।
(৪) গণতান্ত্রিক সিস্টেমের দুর্বলতার তারা সুযোগ নিচ্ছে। পশ্চিম বংগে মাওবাদিরা নন্দীগ্রামে ছিল তৃণমূলের সাথে, গরবেতায় সিপিএমের সাথে-রাজনৈতিক পার্টিগুলি নিজেদের স্বার্থরক্ষার জন্যে এদের ডাকছে-মাওবাদিরা সুযোগের সম্পূর্ণ সদ্বাব্যাবহার করছে।
আমরা বলছি মাওবাদিরা গণতন্ত্রে ফিরছে না কেন? কেন গণতান্ত্রিক পথে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে না?
আসলে এটা ওপর থেকে বলা সহজ -বাস্তবটাও দেখতে হবে। কারা এম এল এ, এম পি হয় এসব জায়গা থেকে? আজই দেখলাম দলিত নেত্রীর এক চ্যালা যে এম পি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিল-পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়েছে ৮ টি ধর্ষনের ঘটনা নথিবদ্ধ হওয়ার পরে! খুন, রাহাজানি, ধর্ষন ইত্যাদি ২২ টা মামলা তার বিরুদ্ধ! জমি দখলের বিরুদ্ধে লড়াই করা পার্টির এম এল এ জমি দখল করেই তিন বছরে ৮০ লাখ টাকার সম্পত্তি বানিয়েছেন!
জমি দখলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে নামা নেতাই যদি ক্ষমতা পাওয়ার পরে জমি দখল করা শুরু করেন-তাহলে কি ভাবে এবং কেন গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করবে মানুষ? নেতা হওয়াটা আজকাল মিডিয়া মঞ্চে অভিণয় করে মানুষকে টুপি পড়িয়ে এম এল এ, এম পি হয়ে গুছিয়ে নেওয়ার সিস্টেম হয়েছে। আপনারাই বুকে হাত দিয়ে বলুন কোন রাজনৈতিক নেতাকে আপনি বিশ্বাস করতে পারেন ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে আপনাদের স্বার্থ রক্ষার জন্যে? দু এক জন এমন থাকলেও পার্টি কি তাকে রাখবে? তাহলে ওই এক বেলা পাতা-ভাত খেয়ে থাকা বনের মানুষ গুলো কাদের বিশ্বাস করবে? রঙ্গমঞ্চের রঙ মাখা অভিনেতাদের ? এ ব্যাপারে ত সবাই সমান। সিপিএমের অনুজ পান্ডে ত শুধু লালগড়ে-চত্রিশগড় মধ্য প্রদেশে অমন অনেক অনেক অনুজ পান্ডে আছে!
এদেরকে গণতন্ত্রে ফিরতে বলাটা প্রহসন। নেতা থেকে অফিসাররা কি তা ওরা দেখেছে-আবার মাওবাদি নেতারা কিভাবে ওদের পাশে নানান ভাবে দাঁড়িয়েছে, সেটাও ওরা জানে। ন্যাড়াদের বেল তলায় বার বার যেতে বলাটা ঠাট্টা করা। চে গুয়েভেরার ওপর একটা ডকুমেন্টারী মনে পড়ছে-চে আর কাস্ত্রো একের পর এক থানা আক্রমন করছেন-আর তত গ্রামের মানুষেরা স্বেচ্ছায় চে র গেরিলা ফোর্সের সাথে যোগ দিচ্ছেন। ভারতের মাওবাদিরাও একই ভাবে এগিয়ে চলেছে। তবে ভারতে গণতন্ত্র আছে এবং কিউবার থেকে ভারত একশোগুন বড়-তাই বাতিস্তুতা সরকারের মতন ভারতের পতন অসম্ভব-কিন্ত ভারতে একটা প্রাক বিপ্লব পরিস্থিতি মাওবাদিরা তৈরী করেছে, তা অস্বীকার করা অসম্ভব।
যদি রাশিয়া , চীন আর কিউবার ইতিহাস সম্পূর্ণ না জানা থাকত-আমি বলতাম মাওবাদিরা এগিয়ে যাক। কিন্ত ইতিহাস এটাও বলে কমিনিউস্ট বিপ্লব এই পচা গণতন্ত্রের চেয়েও আরো ভয়ঙ্কর। এই গনতন্ত্র আর যাইহোক লাখে লাখে মানুষ মারে না-দুর্বল হলেও কিছু পরিবর্তন হয়। আর পৃথিবীর কোন দেশেই কমিনিউজম শোষনের অবসান করে নি-বনিক শ্রেনীর বদলে পার্টির নেতা আর বুরোক্রাটরা শোষকের স্থান গ্রহণ করেছে-যে ব্যাপারের সাথে পশ্চিম বঙ্গের লোকজনের সামান্য পরিচয় হয়েছে। আমাদের গণতন্ত্র যতই বাজে হৌক অতটা বাজে নয় যে পুলিশ স্টেটের ন্যায়, যা খুশি যাকে খুশী মারা যাবে, জেলে ভরা যাবে। সুতরাং আমাদের গনতান্ত্রিক কাঠামোর যে সমস্যা আছে-গণতন্ত্রের যে সমস্যা আছে-যার বিরুদ্ধে মাওবাদিরা লড়াই করছে-সেই গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ব্যাপক ভাবে সংস্কার করতে হবে।
কিন্ত কেও যদি মাওবাদিদের বিরুদ্ধে সিপিএমের মায়াকান্না দেখে পুলকিত হন ভুল করবেন। সিপিএমের আরাধ্য দেবতা লেনিন রেড টেররের সময় গনতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রীদের ঠিক এই ভাবেই পিঁপড়ের মতন মেরেছিলেন যেভাবে মাওবাদিরা সিপিএম মারছে। সুতরাং সিপিএমের তাত্ত্বিক ভিত্তি ভাওতাবাজি দুনাম্বারীর ওপর দাঁড়িয়ে আছে-মাওবাদিদের মধ্যে কিন্তু এই দ্বিচারিতা নেই। তারা লেনিনের গনতান্ত্রিক এবং দক্ষিন পন্থীদের খুন করে লাল সন্ত্রাসের সাহায্যে ক্ষমতা দখলের পথই নিয়েছে। সিপিএম মুখে লেনিনের কথা বলেলেও, আসলেই একটি বুর্জোয়া পার্টি। স্টালিন দুবার মেনশেভিকদের সাথে হাত মিলিয়ে জারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চেয়েছিলেন-লেনিন দুবারই না করে দিয়েছিলেন। লেনিন গনতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রীদের সাথে কোনদিন হাত মেলান নি-এবং ১৯১৮ সালে তাদের মেরেই ফেললেন বা পিটয়ে বলশেভিক বানালেন। মাওবাদিরা সিপিএম পিটিয়ে কিন্ত ঠিক এই কাজটাই করছে। সুতরাং সিপিএম যখই মায়াকান্না কাঁদুক, কমিনিউজমের সামান্য ইতিহাস বা তত্ত্ব যাদের জানা আছে, তারা নিশ্চিত ভাবেই জানবেন মাওবাদিরাই আসল লেনিনবাদি দল-সিপিম হচ্ছে একটি বিশুদ্ধ হিপোক্রিট গজকচ্ছপ। তাত্ত্বিক ভিত্তি এবং ক্যাডার বেসেও। লেনিনে এরা সামনে দিকে মালা পড়িয়ে পেছনে পেচ্ছাব করছিল-এখন আসল লেনিনবাদিদের হাতে মার খেয়ে, আসল নকলটা সহজেই বেড়িয়ে আসবে।
মাওবাদিদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান যেমন হওয়া দরকার-ঠিক তেমনই আমাদের গনতন্তের দুর্বলতা বুঝতে, মাওবাদি আন্দোলনের দরকার ছিল। শুধু সেনা অভিযান করে এই আন্দোলন রোখা যাবে না। ভারতীয় গনতন্তের আমূল সংস্কার সাধন করতে হবে, যাতে একদম পিছিয়ে পড়া লোকেদের গলাও দিল্লীতে পৌঁছাতে পারে। প্রথম কাজটা যদি সরকার করে-দ্বিতীয় কাজটা আমাদের।
রাষ্ট্র? সিপিম? মাওবাদি?
নানান ফোরামে ঘুরলে দেখা যাবে সিপিএম মাওবাদিদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছড়াচ্ছে-নক্সালরা সিপিম আর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে-দক্ষিন পন্থীরা আবার মাওবাদি এবং সিপিএম উভয়কেই দুষছেন। বৃত্তাকারে স্তূপীকৃত হচ্ছে দোষারোপ। কিন্ত বাস্তবটা কি?
এককচিত্র বা খন্ডচিত্র শুধুই গোলক ধাঁধা। মাওবাদিরা দড়জায় কড়া নাড়ছে এব্যাপারে সন্দেহ নেই। এসব আলোচনাতে যা ভুলে যাওয়া হচ্ছে
(১) ভারতের সবচেয়ে দরিদ্র ক্লিষ্ট জঙ্গল রাজ্যেগুলিতে মাওবাদিদের ঘাঁটি
(২) ২৮ টির মধ্যে ২২ টি রাজ্যে মাওবাদিরা সক্রিয় -এর মধ্যে চারটি রাজ্যে তারাই সমান্তরাল প্রশাসন চালাচ্ছে ( তোলাবাজি বা ট্যাক্সেশন পর্যন্ত)
(৩) সালোয়া জুডুম, সেনাবাহিনী-কোবরা--কোন কিছু দিয়েই তাদের দমানো যাচ্ছে না। তাদের শক্তি বৃদ্ধি হচ্ছে উত্তোরোত্তর।
(৪) গণতান্ত্রিক সিস্টেমের দুর্বলতার তারা সুযোগ নিচ্ছে। পশ্চিম বংগে মাওবাদিরা নন্দীগ্রামে ছিল তৃণমূলের সাথে, গরবেতায় সিপিএমের সাথে-রাজনৈতিক পার্টিগুলি নিজেদের স্বার্থরক্ষার জন্যে এদের ডাকছে-মাওবাদিরা সুযোগের সম্পূর্ণ সদ্বাব্যাবহার করছে।
আমরা বলছি মাওবাদিরা গণতন্ত্রে ফিরছে না কেন? কেন গণতান্ত্রিক পথে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে না?
আসলে এটা ওপর থেকে বলা সহজ -বাস্তবটাও দেখতে হবে। কারা এম এল এ, এম পি হয় এসব জায়গা থেকে? আজই দেখলাম দলিত নেত্রীর এক চ্যালা যে এম পি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিল-পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়েছে ৮ টি ধর্ষনের ঘটনা নথিবদ্ধ হওয়ার পরে! খুন, রাহাজানি, ধর্ষন ইত্যাদি ২২ টা মামলা তার বিরুদ্ধ! জমি দখলের বিরুদ্ধে লড়াই করা পার্টির এম এল এ জমি দখল করেই তিন বছরে ৮০ লাখ টাকার সম্পত্তি বানিয়েছেন!
জমি দখলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে নামা নেতাই যদি ক্ষমতা পাওয়ার পরে জমি দখল করা শুরু করেন-তাহলে কি ভাবে এবং কেন গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করবে মানুষ? নেতা হওয়াটা আজকাল মিডিয়া মঞ্চে অভিণয় করে মানুষকে টুপি পড়িয়ে এম এল এ, এম পি হয়ে গুছিয়ে নেওয়ার সিস্টেম হয়েছে। আপনারাই বুকে হাত দিয়ে বলুন কোন রাজনৈতিক নেতাকে আপনি বিশ্বাস করতে পারেন ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে আপনাদের স্বার্থ রক্ষার জন্যে? দু এক জন এমন থাকলেও পার্টি কি তাকে রাখবে? তাহলে ওই এক বেলা পাতা-ভাত খেয়ে থাকা বনের মানুষ গুলো কাদের বিশ্বাস করবে? রঙ্গমঞ্চের রঙ মাখা অভিনেতাদের ? এ ব্যাপারে ত সবাই সমান। সিপিএমের অনুজ পান্ডে ত শুধু লালগড়ে-চত্রিশগড় মধ্য প্রদেশে অমন অনেক অনেক অনুজ পান্ডে আছে!
এদেরকে গণতন্ত্রে ফিরতে বলাটা প্রহসন। নেতা থেকে অফিসাররা কি তা ওরা দেখেছে-আবার মাওবাদি নেতারা কিভাবে ওদের পাশে নানান ভাবে দাঁড়িয়েছে, সেটাও ওরা জানে। ন্যাড়াদের বেল তলায় বার বার যেতে বলাটা ঠাট্টা করা। চে গুয়েভেরার ওপর একটা ডকুমেন্টারী মনে পড়ছে-চে আর কাস্ত্রো একের পর এক থানা আক্রমন করছেন-আর তত গ্রামের মানুষেরা স্বেচ্ছায় চে র গেরিলা ফোর্সের সাথে যোগ দিচ্ছেন। ভারতের মাওবাদিরাও একই ভাবে এগিয়ে চলেছে। তবে ভারতে গণতন্ত্র আছে এবং কিউবার থেকে ভারত একশোগুন বড়-তাই বাতিস্তুতা সরকারের মতন ভারতের পতন অসম্ভব-কিন্ত ভারতে একটা প্রাক বিপ্লব পরিস্থিতি মাওবাদিরা তৈরী করেছে, তা অস্বীকার করা অসম্ভব।
যদি রাশিয়া , চীন আর কিউবার ইতিহাস সম্পূর্ণ না জানা থাকত-আমি বলতাম মাওবাদিরা এগিয়ে যাক। কিন্ত ইতিহাস এটাও বলে কমিনিউস্ট বিপ্লব এই পচা গণতন্ত্রের চেয়েও আরো ভয়ঙ্কর। এই গনতন্ত্র আর যাইহোক লাখে লাখে মানুষ মারে না-দুর্বল হলেও কিছু পরিবর্তন হয়। আর পৃথিবীর কোন দেশেই কমিনিউজম শোষনের অবসান করে নি-বনিক শ্রেনীর বদলে পার্টির নেতা আর বুরোক্রাটরা শোষকের স্থান গ্রহণ করেছে-যে ব্যাপারের সাথে পশ্চিম বঙ্গের লোকজনের সামান্য পরিচয় হয়েছে। আমাদের গণতন্ত্র যতই বাজে হৌক অতটা বাজে নয় যে পুলিশ স্টেটের ন্যায়, যা খুশি যাকে খুশী মারা যাবে, জেলে ভরা যাবে। সুতরাং আমাদের গনতান্ত্রিক কাঠামোর যে সমস্যা আছে-গণতন্ত্রের যে সমস্যা আছে-যার বিরুদ্ধে মাওবাদিরা লড়াই করছে-সেই গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ব্যাপক ভাবে সংস্কার করতে হবে।
কিন্ত কেও যদি মাওবাদিদের বিরুদ্ধে সিপিএমের মায়াকান্না দেখে পুলকিত হন ভুল করবেন। সিপিএমের আরাধ্য দেবতা লেনিন রেড টেররের সময় গনতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রীদের ঠিক এই ভাবেই পিঁপড়ের মতন মেরেছিলেন যেভাবে মাওবাদিরা সিপিএম মারছে। সুতরাং সিপিএমের তাত্ত্বিক ভিত্তি ভাওতাবাজি দুনাম্বারীর ওপর দাঁড়িয়ে আছে-মাওবাদিদের মধ্যে কিন্তু এই দ্বিচারিতা নেই। তারা লেনিনের গনতান্ত্রিক এবং দক্ষিন পন্থীদের খুন করে লাল সন্ত্রাসের সাহায্যে ক্ষমতা দখলের পথই নিয়েছে। সিপিএম মুখে লেনিনের কথা বলেলেও, আসলেই একটি বুর্জোয়া পার্টি। স্টালিন দুবার মেনশেভিকদের সাথে হাত মিলিয়ে জারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চেয়েছিলেন-লেনিন দুবারই না করে দিয়েছিলেন। লেনিন গনতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রীদের সাথে কোনদিন হাত মেলান নি-এবং ১৯১৮ সালে তাদের মেরেই ফেললেন বা পিটয়ে বলশেভিক বানালেন। মাওবাদিরা সিপিএম পিটিয়ে কিন্ত ঠিক এই কাজটাই করছে। সুতরাং সিপিএম যখই মায়াকান্না কাঁদুক, কমিনিউজমের সামান্য ইতিহাস বা তত্ত্ব যাদের জানা আছে, তারা নিশ্চিত ভাবেই জানবেন মাওবাদিরাই আসল লেনিনবাদি দল-সিপিম হচ্ছে একটি বিশুদ্ধ হিপোক্রিট গজকচ্ছপ। তাত্ত্বিক ভিত্তি এবং ক্যাডার বেসেও। লেনিনে এরা সামনে দিকে মালা পড়িয়ে পেছনে পেচ্ছাব করছিল-এখন আসল লেনিনবাদিদের হাতে মার খেয়ে, আসল নকলটা সহজেই বেড়িয়ে আসবে।
মাওবাদিদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান যেমন হওয়া দরকার-ঠিক তেমনই আমাদের গনতন্তের দুর্বলতা বুঝতে, মাওবাদি আন্দোলনের দরকার ছিল। শুধু সেনা অভিযান করে এই আন্দোলন রোখা যাবে না। ভারতীয় গনতন্তের আমূল সংস্কার সাধন করতে হবে, যাতে একদম পিছিয়ে পড়া লোকেদের গলাও দিল্লীতে পৌঁছাতে পারে। প্রথম কাজটা যদি সরকার করে-দ্বিতীয় কাজটা আমাদের।
Saturday, August 15, 2009
শারুখ খানের হেনস্থা(!) এবং বাঙালী বামপন্থীদের অন্ধ আমেরিকা বিরোধিতা
আজ নিউইয়ার্ক এয়ারপোর্টে শারুখ খান স্পেশাল চেকিং এর সম্মুখীন হন। তার নাম কম্পুটারে স্পেশাল চেকিং এর জন্যে সিলেক্টেড হয় এবং তাকে তল্লাসী ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শারুখের পরিচয় নিরাপত্তা কর্মীরা জানত। তারপরেও তাকে ছাড় দেওয়া হয় নি। কারন আমেরিকা চলে সিস্টেমে। এখানে ভারতের মতন কাওকে ভি আই পি বা স্পেশাল ছাড় দেওয়ার নিয়ম নেই!
সে যাক। শারুখের এই 'হেনস্থা' নিয়ে ভারতের বামপন্থী মহল আমেরিকা বিরোধিতার ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছে! শারুখ মুসলমান, তাই নাকি সন্ত্রাসবাদি সন্দেহে এই হেনস্থা! নানা ফোরামে আমেরিকাকে গালাগাল দিত্যে নেমে পড়েছে ভারতের বামপন্থী বাহিনী। যারা আদৌ জানেই না, আমেরিকাতে কিভাবে এই স্পেশাল চেকিংটা হয়! তাতে কি যায় আসে! প্রকাশ কারাত ও জানেন না নিউক্লিয়ার শক্তি ভারতের কেন লাগবে। কিন্ত তাতে কি রাজনীতি আটকায়? কিছু না বুঝে গোলতোলার ক্ষেত্রে বামপন্থীদের প্রতিদ্বন্দী আর কে আছে?
ব্যাপারটা মোটেও সেরকম কিছু না। আমি নিজেও স্পেশাল চেকিং দু-তিনবার ফেস করেছি। প্রথম বার এমনটা হয়েছে আমার জীবনে সেডার রাপিড এয়ারপোর্টে। প্রথমে ঘাবরে গিয়েছিলাম। কিন্ত নিরাপত্তা কর্মীদের ব্যাবহার ছিল অমায়িক। সব থেকে বড় কথা আমি ভারতীয় বলে আমাকে সিলেক্ট করে নি। কম্পুউটারে রান্ডম ভাবে এই নাম গুলো উঠে আসে। আমার আগে চেক করা হচ্ছিল এক সত্তরের সাদা বৃদ্ধাকে! কম্পুটারের নির্বাচনের ওপর কারুর হাত নেই। এটা বুঝতে কি খুব বেশী অসুবিধা হয়- যে আমার নিজের নিরাপত্তার জন্যেই কাজ করছে ওরা? তাতে আমার আপত্তি থাকবে কেন? শারুখ খান যদি ভেবে থাকেন আমেরিকায় ভারতের মতন স্পেশাল স্ট্যাটাস পাবেন-তাহলে ভুল। আমেরিকা চলে সিস্টেমে।
৯/১১ এর পর আমেরিকাতে একটিও সন্ত্রাসবাদের ঘটনা ঘটে নি। ঘটতে পারত অনেক। এফ বি আই সব মুসলিম টেররিস্ট সেলগুলিকে আগেই ধরে ফেলেছে। আর ভারতে কি হয়েছে? খই মুরকির মতন সন্ত্রাসবাদের বোমা ফেটেছে। কেও জানে না, কাল তার স্টেশনে বোমা ফাটবে কি না! এই ত ভারতের নিরাপত্তার অবস্থা! সেই ভারতীয়রা আমেরিকার নিরাপত্তা ব্যাবস্থার সমালোচনা করে কি বুদ্ধিতে যখন এই ব্যাপারে ভারত সম্পূর্ণ ব্যার্থ এবং আমেরিকা সফল? ভারত কটা মুসলিম টেররিস্ট সেল বোমা ফাটানোর আগে ধরতে পেরেছে? গুনে দেখুন। উত্তর পাবেন। রেশিয়াল প্রোফাইলিং এর ভয়ে ভারতের নিরাপত্তা কর্মীরা মুসলিম ধর্মীয় সংগঠন গুলির মধ্যে ইনফিলট্রেট করতে পারে নি। পারবেও না। কথাটি আমার না। ভারতের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বি আর রমনের। সেখানে এফ বি আই আমেরিকার সব মুসলিম সংগঠনে ঢুকে গেছে। আমেরিকাতেও মুসলিমরা তাদের প্রফাইলিং করা হচ্ছে বলে চিৎকার করেছে। আমেরিকার কোন রাজনৈতিক নেতা ভোট হারানোর ভয়ে, তার জন্যে এফ বি আই কে তাদের কাজ থেকে সরে আসতে বলে নি। এটাই আমেরিকার সাথে ভারতের পার্থক্য। এই জন্যেই ভারতে সন্ত্রাসববাদি বোমা ফাটতেই থাকবে-আমেরিকা তুলনা মূলক ভাবে অনেক নিরাপদ।
স্পেডকে স্পেড বলতে না পারলে, সন্ত্রাসবাদীর প্রথম বুলেটটা আপনারই প্রাপ্য।
সে যাক। শারুখের এই 'হেনস্থা' নিয়ে ভারতের বামপন্থী মহল আমেরিকা বিরোধিতার ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছে! শারুখ মুসলমান, তাই নাকি সন্ত্রাসবাদি সন্দেহে এই হেনস্থা! নানা ফোরামে আমেরিকাকে গালাগাল দিত্যে নেমে পড়েছে ভারতের বামপন্থী বাহিনী। যারা আদৌ জানেই না, আমেরিকাতে কিভাবে এই স্পেশাল চেকিংটা হয়! তাতে কি যায় আসে! প্রকাশ কারাত ও জানেন না নিউক্লিয়ার শক্তি ভারতের কেন লাগবে। কিন্ত তাতে কি রাজনীতি আটকায়? কিছু না বুঝে গোলতোলার ক্ষেত্রে বামপন্থীদের প্রতিদ্বন্দী আর কে আছে?
ব্যাপারটা মোটেও সেরকম কিছু না। আমি নিজেও স্পেশাল চেকিং দু-তিনবার ফেস করেছি। প্রথম বার এমনটা হয়েছে আমার জীবনে সেডার রাপিড এয়ারপোর্টে। প্রথমে ঘাবরে গিয়েছিলাম। কিন্ত নিরাপত্তা কর্মীদের ব্যাবহার ছিল অমায়িক। সব থেকে বড় কথা আমি ভারতীয় বলে আমাকে সিলেক্ট করে নি। কম্পুউটারে রান্ডম ভাবে এই নাম গুলো উঠে আসে। আমার আগে চেক করা হচ্ছিল এক সত্তরের সাদা বৃদ্ধাকে! কম্পুটারের নির্বাচনের ওপর কারুর হাত নেই। এটা বুঝতে কি খুব বেশী অসুবিধা হয়- যে আমার নিজের নিরাপত্তার জন্যেই কাজ করছে ওরা? তাতে আমার আপত্তি থাকবে কেন? শারুখ খান যদি ভেবে থাকেন আমেরিকায় ভারতের মতন স্পেশাল স্ট্যাটাস পাবেন-তাহলে ভুল। আমেরিকা চলে সিস্টেমে।
৯/১১ এর পর আমেরিকাতে একটিও সন্ত্রাসবাদের ঘটনা ঘটে নি। ঘটতে পারত অনেক। এফ বি আই সব মুসলিম টেররিস্ট সেলগুলিকে আগেই ধরে ফেলেছে। আর ভারতে কি হয়েছে? খই মুরকির মতন সন্ত্রাসবাদের বোমা ফেটেছে। কেও জানে না, কাল তার স্টেশনে বোমা ফাটবে কি না! এই ত ভারতের নিরাপত্তার অবস্থা! সেই ভারতীয়রা আমেরিকার নিরাপত্তা ব্যাবস্থার সমালোচনা করে কি বুদ্ধিতে যখন এই ব্যাপারে ভারত সম্পূর্ণ ব্যার্থ এবং আমেরিকা সফল? ভারত কটা মুসলিম টেররিস্ট সেল বোমা ফাটানোর আগে ধরতে পেরেছে? গুনে দেখুন। উত্তর পাবেন। রেশিয়াল প্রোফাইলিং এর ভয়ে ভারতের নিরাপত্তা কর্মীরা মুসলিম ধর্মীয় সংগঠন গুলির মধ্যে ইনফিলট্রেট করতে পারে নি। পারবেও না। কথাটি আমার না। ভারতের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বি আর রমনের। সেখানে এফ বি আই আমেরিকার সব মুসলিম সংগঠনে ঢুকে গেছে। আমেরিকাতেও মুসলিমরা তাদের প্রফাইলিং করা হচ্ছে বলে চিৎকার করেছে। আমেরিকার কোন রাজনৈতিক নেতা ভোট হারানোর ভয়ে, তার জন্যে এফ বি আই কে তাদের কাজ থেকে সরে আসতে বলে নি। এটাই আমেরিকার সাথে ভারতের পার্থক্য। এই জন্যেই ভারতে সন্ত্রাসববাদি বোমা ফাটতেই থাকবে-আমেরিকা তুলনা মূলক ভাবে অনেক নিরাপদ।
স্পেডকে স্পেড বলতে না পারলে, সন্ত্রাসবাদীর প্রথম বুলেটটা আপনারই প্রাপ্য।
Monday, August 10, 2009
বিশাল ভূমিকম্প ভারত মহাসাগরে-সুনামী হিট করতে পারে
প্রথম আপডেট-ভারতীয় সময় ৩-৩০ সকাল-১১ই আগস্টঃ
আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ২৫৩ কিলোমিটার দুরের এক এপিসেন্টারে বিশাল ভূমিকম্পের খবর পেলাম-এই মাত্র। সময়
মাত্র কুড়ি মিনিট বাদে জাপান এবং মায়নামারে, প্রশান্ত মহাসাগরেও বিরাট ভূমিকম্পের খবর পাওয়া গেছে।
রিখটার স্কেলে আমেরিকান জিওলজিক্যাল সার্ভের মাপ 7.6-যা খুব ভয়ঙ্কর-এবং সুনামী সৃষ্টির জন্যে যথেষ্ট। কোস্ট লাইন ১০০০ মাইল দূরে এপিসেন্টার থেকে-ঘণ্টায় ৫০০ মাইল বেগে ধেয়ে আসা সমুদ্রশ্রোত আনুমানিক আরো দুঘন্টা বাদে ভারতের উপকূলে পৌঁছাবে।
আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ২৫৩ কিলোমিটার দুরের এক এপিসেন্টারে বিশাল ভূমিকম্পের খবর পেলাম-এই মাত্র। সময়
মাত্র কুড়ি মিনিট বাদে জাপান এবং মায়নামারে, প্রশান্ত মহাসাগরেও বিরাট ভূমিকম্পের খবর পাওয়া গেছে।
রিখটার স্কেলে আমেরিকান জিওলজিক্যাল সার্ভের মাপ 7.6-যা খুব ভয়ঙ্কর-এবং সুনামী সৃষ্টির জন্যে যথেষ্ট। কোস্ট লাইন ১০০০ মাইল দূরে এপিসেন্টার থেকে-ঘণ্টায় ৫০০ মাইল বেগে ধেয়ে আসা সমুদ্রশ্রোত আনুমানিক আরো দুঘন্টা বাদে ভারতের উপকূলে পৌঁছাবে।
Sunday, June 14, 2009
সিপিএম এবং রাজনৈতিক হিংসা
ইদানিং তৃণমুলের হাতে মার খেয়ে সিপিএম হিংসা হিংসা ফ্যাসিবাদ ইত্যাদি বলে চিৎকার করছে--
সিপিএমের আইডোলজি ত গান্ধীবাদি না-লেনিন স্টালিন সবাই হিংসাকে কাজে লাহিয়েই ক্ষমতাই এসেছেন-কোন গণতান্ত্রিক রায় তাদের পক্ষে ছিল না।
হিংসা ব্যাবহার করে মানুষ খুন করে ক্ষমতা দখলের নাম কমিনিউস্ট বিপ্লব। কমিনিউস্টরা তা অস্বীকারও করে না।
মোদ্দা কথা সিপিএমের আইডিওজ়িতে হিংসা আপাংত্বেয় না।
যারা হিংসাত্মক কাজ করে-তারা সব সময় হিংসার সপক্ষে সাফাই দেওয়ার চেস্টা করে। লেনিন লোক খুন করে, সেটাকে বলশেভিক বিপ্লব বলে চালিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। হিংসা, তীব্র হিংসার মাধ্যমে জনগনকে মারধোর করে, লেনিন ক্ষমতা দখল করেন। কারন নির্বাচনে তিনি হেরে ছিলেন। সেটাকে সিপিএম সমর্থন করে। অর্থাৎ গণতন্ত্রকে গলা টিপে খুন করাতে সিপিএমের কোন আপত্তি নেই। কারন সেটাই লেনিনবাদ।
তৃণমূলও হিংসার পক্ষে সাফাই গাইতে বলছে সিপিএমের গুন্ডাদের হাত থেকে বাঁচতে এটা আত্মরক্ষা। হার্মাদ বাহিনীর হাত থেকে তারা নানান গ্রাম এবং লোকালয় মুক্ত করছে। লেনিনের রেড টেটর এর থেকেও ভয়ংকর ছিল-তিনি অবাধ্য কৃষক এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দীদের রাশিয়ার ওই প্রবল ঠান্ডায় নগ্ন করিয়ে দাঁড়িয়ে রেখে মারতেন। সিপিএম কোনদিন তার জন্যে দুঃখ প্রকাশ করেনি-কারন তাহা বলশেভিক বিপ্লব।
অর্থাৎ সব ধরনের কমিনিউস্ট হিংসা বিপ্লব , আর তার বিরুদ্ধে নিপীড়িতদের জনঅভ্যুত্থান হচ্ছে প্রতিবিপ্লব!
বাস্তব হচ্ছে হিংসা হিংসাই-যা গান্ধী বলতেন। তার কোন জাস্টিফিকেশন চলে না। হিংসা মানুষের আদিম প্রবৃত্তি-আত্মরক্ষা খাতে ছাড়া আর কোন কাজেই সমর্থন যোগ্য না।
প্রশ্ন হচ্ছে সিপিএম যত দিন না লেনিনবাদ না ছাড়বে-তত দিন হিংসার বিরুদ্ধে বলার কি মরাল রাইট আছে? লেনিনবাদ মানেই ত হিংসার পথে ক্ষমতা দখল। তাহলে, সিপিএমকে তার বিরোধি পার্টি মারধোর করলে, তারা কান্নাকাটি করছে কেন? তাদের আদর্শ, লেনিনবাদই বলছে বিপরীত আদর্শের লোকদের পেটানো এবং খুনোখুনি হারাম না। তাহলে সিপিএমের নেতাদের পেটানো কেন বাজে কাজ? সিপিএমের আদর্শেই তা সিদ্ধ।
একটা দল হিংসার আদর্শকে বক্ষে বহন করে, শতাব্দীর কুখ্যাত দুই খুনী ( লেনিন এবং স্ট্যালিন) কে পূজো করে, কখনোই বলতে পারে না লোকেরা আমার বিরুদ্ধে হিংস্র হচ্ছে কেন! হিংসার পথে হিংসারই জন্ম হয়। যার জন্যে কমিনিউস্ট রাষ্ট্রগুলি মানব সভ্যতাকে নরমেধ যজ্ঞ আর ভয়ঙ্কর সব মিশাইল ছাড়া কিছুই দিতে পারে নি।
তাই আসুন আমরা সিপিএম নেতাদের জিজ্ঞেস করি। মশাই কাঁদছেন কেন? আপনারাইত হিংসার পলিটিক্যাল স্যাংশান দিয়েছেন।
অন্যের মায়ের আঁচল যখন খালি হয়, তখন সেটা বিপ্লব। আর নিজেদের ঘরে হিংসার আঁচ এলে সেটা প্রতিবিপ্লব।
কম্যুনিউস্টদের তুলনা এই বিশ্বে একমাত্র তারা নিজেরাই!
Saturday, June 13, 2009
ছাত্র রাজনীতি না পার্টির সাপ্লাই লাইন?
গত দুই সপ্তাহে পশ্চিম বঙ্গের কলেজ গুলোর একটাই খবর- তৃণমুল বনাম সিপিএমের কুস্তির আখরায় জমি দখলের লড়াই। আগামী দুই বছর আমাদের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যত বেশ ঝরঝরে -সত্তরের দশকের পদধ্বনি।
বাংলার ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহ্য উজ্জ্বল-এ কথা ছোটবেলা শুনে আসছি। কেন উজ্জ্বল বা ঐতিহ্য কথাটা ব্যাবহার করা হবে-তার আমি যথাযত কোন কারন খুঁজে পাই নি। যদি ধরে নিই বুদ্ধদেব বা বিমান বা মমতা আমাদের 'গৌরবময় ছাত্র আন্দোলনের' প্রোডাক্ট-খুব পরিস্কার ভাবেই বলা দরকার, এদের অপদার্থতার জন্যেই আজ পশ্চিম বঙ্গ সব কিছুতেই শেষের দিক থেকে প্রথম। এর জন্যে সংখ্যাতত্ত্ব নিস্প্রোজন। দুদিন দিল্লীর গুঁরগাঁও বা ব্যাঙ্গালোরের হাইটেল টেক পার্কগুলো ঘুরলেই বোঝা যাবে পশ্চিম বঙ্গ এখন শ্বশান বঙ্গ। কৃষির কথা বলছেন? আমি ১৯৮০ সালে দেখেছি একজন ভূমিহীন কৃষক তখন ২০ টাকা রোজ পেত-এখন পাচ্ছে ৫০টাকা। তাও বছরে ২০ দিন। আর গুজরাট বা মহারাষ্ট্রে এইসব ডেইলি লেবাররা কাজ পায় ৯০-১০০ দিন এবং ১০০/১২০টাকা রোজে। মোদ্দা কথায় পশ্চিম বঙ্গ একটি ভীষন রকমের পিছিয়ে পড়া রাজ্য। শিক্ষা, শিল্প, বিদ্যুত, কৃষি-সব দিক দিয়ে।
ছাত্র আন্দোলনের ফাইনাল প্রোডাক্ট যদি বুদ্ধ বা মমতা হয়--আমাদের লাভটা কি হল? বরং কর্নাটক বা তামিলনাড়ুতে দেখুন। এস এম কৃষ্ণা ব্যাঙ্গালোরের রূপকার-কৃষ্ণা আমেরিকাতে পেশাদারি ডিগ্রী পাশ করে, দেশে এসে রাজনীতি করেছেন। ফলে ব্যাঙ্গালোরকে দেশের মধ্যে এগিয়ে দিতে পেরেছেন। আফগানিস্থানে আমেরিকা প্রস্বাব করলে, কর্নাটকের চাকা বন্ধ করেন নি। খুবই ফোকাসড থেকেছেন ব্যাঙ্গালোরের উন্নতির প্রশ্নে। যেসব ছাত্র কমরেডরা বিগ্রেডে আজ ডি ওয়াই এফ আই এর হয়ে সাম্রাজ্যবাদি শ্লোগান দিচ্ছে, কালকে তারাই পেটের তাড়নায় ব্যঙ্গালোর বা হায়দ্রাবাদে যাচ্ছে! তাই প্রশ্নটা আমি বারবার করছি-পশ্চিম বঙ্গের গৌরবময় ছাত্র আন্দোলনের ফলটা কি? শুন্য না নেগেটিভ?
এর থেকে কি ভাল কোন সাহিত্যিক বা দার্শনিক বা রাজনৈতিক পন্ডিত বেড়িয়েছে? প্রথমে রাজনীতিতেই আসি। বাঙালীদের মধ্যে যারা কমিনিউমের চর্চা করেন তারা কি আদৌ মার্ক্স বোঝেন? আমার নিজের ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলি-টপ টু বটম কেও মার্ক্সবাদের ম ও বোঝেন না। বুঝলে এদ্দিনে লেনিনবাদের শ্রেফ ধাপ্পাবাজিগুলো অনায়াসের ধরতে পারতেন। ১৯১০ সাল থেকে লেনিনবাদের সমালোচনা রাজনীতি বিজ্ঞানীরা করেছেন-এবং ১৯৩০ সালের মধ্যে এটা বিশেষভাবে গবেষনা মহলে গ্রহনযোগ্য হয় যে লেনিন মার্ক্সবাদ বুঝতেন না-এবং তিনি নিজের ফ্যাসিস্ট তত্ত্বকে মার্ক্সের নতুন অবতার হিসাবে চালিয়ে ভ্যাঙ্গার্ড পার্টির দৈত্য- কমিনিউজম নামক স্বৈরাচারী বস্তুটি তৈরী করেছিলেন। মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদের ওপর বাংলায় লেখা একটিও আন্তর্জাতিক মানের বই আছে যা মৌলিকত্ব দাবি করতে পারে? যেসব বই আছে সেগুলো সব লিফলেট-কোম সিরিয়াস বিশ্লেষন ধর্মী কিছু না। যেগুলোতে বিশ্লেষনের ভাব আছে, আদের অধিকাংশরই দর্শন শাস্ত্রে প্রাথমিক জ্ঞান নেই। শ্রেফ প্রপাগান্ডা জোক। আর বাংলা সাহিত্যের কথা না বলাই ভাল। আন্তর্জাতিক মানের সাহিত্যে জীবনানন্দই বাংলার শেষ মোহিকান্ত। বাংলা কবিতা যাও বা কিছু হয়-উপন্যাস আর ছোটগল্পের করুন হাল।
তাহলে ছাত্র আন্দোলন থেকে আমরা অশ্বডিম্ব ছাড়া আর কি পেলাম?
আমার গোটা শিক্ষাজীবন কেটেছে আই আই টিতে-সেখানেও অরাজনৈতিক ছাত্র ইউনিয়ান (জিমখানা) আছে। ছাত্রদের দাবি নিয়ে আমরাও আন্দোলন করেছি। কিন্ত আমেরিকা কোথায় হাগুমুতু করছে, তা পরিস্কার করার দাবিতে কোন সময় নষ্ট করি নি।
আমি একথা বলছি না, ছাত্রদের বৃহত্তর রাজনীতি সচেতন হওয়ার দরকার নেই। কিন্ত সেটার জন্যে যদি, ছাত্ররাজনীতি বড় দলগুলির পুতুল নাচের স্টেজ ওয়ার্ক হয়ে ওঠে, আই আই টি আই আই এমের ফর্মাটেই ছাত্র রাজনীতি হওয়া উচিত। অর্থাৎ দাদাদিদিদের কব্জিমুক্ত হয়ে, ছাত্র ছাত্রীরা সম্পূর্ণ স্বাধীন ভাবেই নিজেদের কলেজ চালাক।
Wednesday, June 10, 2009
রুমানিয়ার চেসেস্কুর মতন অবস্থা হবে বাংলার কমিনিউস্টদের
As human beings, our greatness lies not so much in being able to remake the world - that is the myth of the atomic age - as in being able to remake ourselves. -Mahatma Gandhi
২২ শে ডিসেম্বর, ১৯৮৯। রুমানিয়ার কমিনিউস্ট রাজা নিকোলাস চেসেস্কু, লাখ খানেক জনগণের তাড়া খেয়ে বুদাপেস্টের রাজপ্রাসাদ থেকে হেলিকাপ্টারে পালাচ্ছেন। শেষ রক্ষা হয় নি। মিলিটারি প্লেন, কয়েক মিনিটের মধ্যেই হেলিকপ্টার ইন্টারসেপ্ট করে। ২৫ শে ডিশেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে ঝঁজরা করে দেওয়া হল চেসেস্কু এবং তার স্ত্রী এলেনাকে। শুধু ২০ থেকে ২১ শে ডিসেম্বর, সে দেশের পুলিশ প্রায় দু হাজার গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষকে খুন করে। চেসেস্কুর ২৫ বছরে রাজত্বকালে সিক্রেট পুলিশের হাতেই মারা গেছে ১ লাখের বেশী লোক। ফলে ২৫ বছরের অত্যাচার, খুন দমন এবং নিপীড়নের শাস্তি স্বরূপ ২৩শে ডিসেম্বর, এক বিশেষ জনআদালত চেসেস্কুকে মৃত্যুদন্ডাজ্ঞা দেয়। ফায়ারিং স্কোয়াডে কে গুলি চালাবে, তার জন্যে ১০,০০০ জন স্বেচ্ছাসেবক এগিয়ে আসে-চেসেস্কুর ওপর রুমানিয়ান জনগণের রাগ ছিল এতটাই। ভাগ্যের কি করুণ পরিহাস, ওই সপ্তাহের পিপল ডেমোক্রাসিতে ( ভারতের সিপিএমের মুখপাত্র) সীতারাম ইয়েচুরী সদ্য রুমানিয়া থেকে ফিরে, লিখেছেন মহান কমিনিউস্ট নেতা চেসেস্কুর সংগ্রামী জীবন কাহিনী ( এবং আমার মনে আছে, তা বাংলায় গণশক্তিতেও প্রকাশিত হয়)।
এই মহান কমিনিউস্ট নেতা নিজে থাকতেন এক লক্ষ স্কোয়ার ফুটের বিশাল প্রাসাদে। কিন্ত প্রজাবৃন্দকে প্রবল ঠান্ডার মধ্যেও হিটার না চালিয়ে বাঁচতে হত।রুমানিয়াতে বিদ্যুতের উৎপাদন যথেষ্টই ছিল-কিন্ত তা বেচে দেওয়া হত বিদেশে যাতে চেসেস্কু রাজপরিবারের বৈবভ এবং ব্যাঙ্ক একাউন্ট বাড়তে থাকে রুমানিয়ায় কৃষিজ উৎপাদন ছিল বেশ বেশী-কিন্ত তাও আধপেটা খেয়ে থাকত সেই দেশের জনগন, কারন মহান সমাজতান্ত্রিক নেতা আন্তর্জাতিক কালোবাজারে খাদ্য বেচে প্রিয়তমা স্ত্রী বা মিস্ট্রেসের জন্যে গহনা কিনতেন। নতুন নতুন প্রাসাদ উপহার দিতেন তার রক্ষিতাদের।
পশ্চিম বঙ্গে যেমন মানুষের জীবনের এবং সমাজের প্রতিটা পদক্ষেপে পার্টির কতৃত্ব এবং কড়া নজর-রুমানিয়াতেও ছিল তাই। মজার ব্যাপার হল, এই চেসেস্কুই এক সময় ফ্যাসিবাদ বিরোধি ছাত্র আন্দলোনের নেতা ছিলেন। যখন ক্ষমতাই আসেন তখন বেশ জনপ্রিয় যুবনেতা চেসেস্কু। ঠিক আমাদের বর্তমান সিপিএম নেতাদের মতন-এরাও ছাত্রে অবস্থায় কংগ্রেসের অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে ষাঠ এবং সত্তরের দশকে অনেক আন্দোলন করেছেন। আর আজ ভারত বর্ষে শুধু একটি রাজ্যে দেশের সংবিধান না, পার্টির সংবিধান মেনে মানুষকে চলতে হয়। একটি ফ্যাসিস্ট শাসককুল তাদের পোষা কুকুর ছানাগুলোকে নিয়ে, কারারক্ষীদের মতন পাহারা দিচ্ছে। স্বভূমে এই ভাবেই পরাধীন আমাদের রাজ্যের লোকেরা।
যাইহৌক আবার চেসেস্কুতেই ফিরে আসি। ২২ ডিসেম্বর ছেড়ে পালানোর আগে, ২১শে ডিসেম্বর ও মনে হয় নি চেসেস্কুর পতন হবে। বেলগ্রেডের রেড স্কোয়ারে বিক্ষোভকারিদের বিরুদ্ধে গুলি চালিয়ে, তাদের হটিয়ে, কমিনিউস্ট পার্টি ক্যাডার নামিয়ে বিরাট জনসভা করে চেসেস্কুর
সমর্থনে- টিভিতে তাই দেখানো হয়। তখনো গোটা বিশ্ব বুঝতে পারে নি কমিনিউস্টদের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ কোথায় পৌঁছেছে। বহিঃবিশ্বত দূরের কথা চেসেস্কু নিজেও বোঝেন নি। নইলে ২১ তারিখেই দেশ ছেড়ে পালাতেন। কিন্ত কমিনিউস্টরা মানুষকে বলপূর্বক দাবিয়ে রেখে, বন্দুকের নলের সামনে নিজেদের সমর্থনে লোক নামিয়ে, ভাবে লোকে লাল ঝান্ডা জিন্দাবাদ বলতে বাধ্য হচ্ছে মানে, তাদের গদির হারানোর ভয় নেই!
ডিয়ায়াল উইথ রিয়ালিটি। কমিনিউস্টরা সর্বত্র এর জন্যেই বিখ্যাত-পশ্চিম বঙ্গে তাদের অন্তিম যবনিকাগুলোই বা বাদ যাবে কেন?
কাল খেজুরিতে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্ব, যেভাবে সিপিএমের ২০ট পার্টি অফিস পোড়ানো হয়েছে এবং সিপিএম সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি সার্চ করে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, তাতে আমার প্রথমেই চেসেস্কুর শেষ দিনের কথা মনে পড়ল। খেজুরিতেও অস্ত্রবাজ পার্টির গুন্ডাগুলোকে ধরিয়ে দিয়েছে, অতীতে লাল ঝান্ডা তুলে নিতে বাধ্য হওয়া নির্যাতিত জনগণ। ২১ শে ডিসেম্বর চেসেস্কু যে লোকগুলিকে বন্দুকের নল দিয়ে নিজের সমর্থনে নামিয়েছিলেন, ২২ তারিখে পার্টির ভয় থেকে মুক্ত হয়ে, তারাই তাকে ধাওয়া করে। তৃণমুলের এই বিজয়ে, নির্যাতিত্ জনগণ বুঝেছে, সিপিএমকে আর ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ফলে আরাম্ বাগ, খেজুরী, কেশপুর-সর্বত্র যেখানে হার্মাদ বাহিনীর একচেটিয়া রাজত্ব চলত-আজকে সেসব জায়গার নির্যাতিত জনগন সিপিএমের গুন্ডাদের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
সিপিএমের বিরুদ্ধে যেভাবে জনরোষ ফুঁসলে উঠেছে, তাতে আমার মনে হচ্ছে ২০১১ সালের আগেই নির্বাচন হয়ে যাবে। আগামী দুই বছর সিপিএমের পক্ষে কিছু করা সম্ভব হবে না। ইচ্ছা থাকলেও না। এমন অবস্থাতে বুদ্ধদেব বাবু, সরকার ভেঙে দিলে রাজ্য এবং সিপিএম পার্টির আসু মঙ্গল। নইলে প্রতিটি লোকাল থেকে উচ্চ স্তরের নেতাদের চেসেস্কু বানিয়ে ছাড়বে জনগণ। বত্রিশ বছর এই ভাবে মানুষকে নিস্পেষন করার পর, জনগণের এই প্রতিক্রিয়া স্বতস্ফুর্ত।
কে জানে ভবিষ্যতের ইতিহাস হয়ত এটাকেই জুন বিপ্লব বলবে ।
২২ শে ডিসেম্বর, ১৯৮৯। রুমানিয়ার কমিনিউস্ট রাজা নিকোলাস চেসেস্কু, লাখ খানেক জনগণের তাড়া খেয়ে বুদাপেস্টের রাজপ্রাসাদ থেকে হেলিকাপ্টারে পালাচ্ছেন। শেষ রক্ষা হয় নি। মিলিটারি প্লেন, কয়েক মিনিটের মধ্যেই হেলিকপ্টার ইন্টারসেপ্ট করে। ২৫ শে ডিশেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে ঝঁজরা করে দেওয়া হল চেসেস্কু এবং তার স্ত্রী এলেনাকে। শুধু ২০ থেকে ২১ শে ডিসেম্বর, সে দেশের পুলিশ প্রায় দু হাজার গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষকে খুন করে। চেসেস্কুর ২৫ বছরে রাজত্বকালে সিক্রেট পুলিশের হাতেই মারা গেছে ১ লাখের বেশী লোক। ফলে ২৫ বছরের অত্যাচার, খুন দমন এবং নিপীড়নের শাস্তি স্বরূপ ২৩শে ডিসেম্বর, এক বিশেষ জনআদালত চেসেস্কুকে মৃত্যুদন্ডাজ্ঞা দেয়। ফায়ারিং স্কোয়াডে কে গুলি চালাবে, তার জন্যে ১০,০০০ জন স্বেচ্ছাসেবক এগিয়ে আসে-চেসেস্কুর ওপর রুমানিয়ান জনগণের রাগ ছিল এতটাই। ভাগ্যের কি করুণ পরিহাস, ওই সপ্তাহের পিপল ডেমোক্রাসিতে ( ভারতের সিপিএমের মুখপাত্র) সীতারাম ইয়েচুরী সদ্য রুমানিয়া থেকে ফিরে, লিখেছেন মহান কমিনিউস্ট নেতা চেসেস্কুর সংগ্রামী জীবন কাহিনী ( এবং আমার মনে আছে, তা বাংলায় গণশক্তিতেও প্রকাশিত হয়)।
এই মহান কমিনিউস্ট নেতা নিজে থাকতেন এক লক্ষ স্কোয়ার ফুটের বিশাল প্রাসাদে। কিন্ত প্রজাবৃন্দকে প্রবল ঠান্ডার মধ্যেও হিটার না চালিয়ে বাঁচতে হত।রুমানিয়াতে বিদ্যুতের উৎপাদন যথেষ্টই ছিল-কিন্ত তা বেচে দেওয়া হত বিদেশে যাতে চেসেস্কু রাজপরিবারের বৈবভ এবং ব্যাঙ্ক একাউন্ট বাড়তে থাকে রুমানিয়ায় কৃষিজ উৎপাদন ছিল বেশ বেশী-কিন্ত তাও আধপেটা খেয়ে থাকত সেই দেশের জনগন, কারন মহান সমাজতান্ত্রিক নেতা আন্তর্জাতিক কালোবাজারে খাদ্য বেচে প্রিয়তমা স্ত্রী বা মিস্ট্রেসের জন্যে গহনা কিনতেন। নতুন নতুন প্রাসাদ উপহার দিতেন তার রক্ষিতাদের।
পশ্চিম বঙ্গে যেমন মানুষের জীবনের এবং সমাজের প্রতিটা পদক্ষেপে পার্টির কতৃত্ব এবং কড়া নজর-রুমানিয়াতেও ছিল তাই। মজার ব্যাপার হল, এই চেসেস্কুই এক সময় ফ্যাসিবাদ বিরোধি ছাত্র আন্দলোনের নেতা ছিলেন। যখন ক্ষমতাই আসেন তখন বেশ জনপ্রিয় যুবনেতা চেসেস্কু। ঠিক আমাদের বর্তমান সিপিএম নেতাদের মতন-এরাও ছাত্রে অবস্থায় কংগ্রেসের অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে ষাঠ এবং সত্তরের দশকে অনেক আন্দোলন করেছেন। আর আজ ভারত বর্ষে শুধু একটি রাজ্যে দেশের সংবিধান না, পার্টির সংবিধান মেনে মানুষকে চলতে হয়। একটি ফ্যাসিস্ট শাসককুল তাদের পোষা কুকুর ছানাগুলোকে নিয়ে, কারারক্ষীদের মতন পাহারা দিচ্ছে। স্বভূমে এই ভাবেই পরাধীন আমাদের রাজ্যের লোকেরা।
যাইহৌক আবার চেসেস্কুতেই ফিরে আসি। ২২ ডিসেম্বর ছেড়ে পালানোর আগে, ২১শে ডিসেম্বর ও মনে হয় নি চেসেস্কুর পতন হবে। বেলগ্রেডের রেড স্কোয়ারে বিক্ষোভকারিদের বিরুদ্ধে গুলি চালিয়ে, তাদের হটিয়ে, কমিনিউস্ট পার্টি ক্যাডার নামিয়ে বিরাট জনসভা করে চেসেস্কুর
সমর্থনে- টিভিতে তাই দেখানো হয়। তখনো গোটা বিশ্ব বুঝতে পারে নি কমিনিউস্টদের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ কোথায় পৌঁছেছে। বহিঃবিশ্বত দূরের কথা চেসেস্কু নিজেও বোঝেন নি। নইলে ২১ তারিখেই দেশ ছেড়ে পালাতেন। কিন্ত কমিনিউস্টরা মানুষকে বলপূর্বক দাবিয়ে রেখে, বন্দুকের নলের সামনে নিজেদের সমর্থনে লোক নামিয়ে, ভাবে লোকে লাল ঝান্ডা জিন্দাবাদ বলতে বাধ্য হচ্ছে মানে, তাদের গদির হারানোর ভয় নেই!
ডিয়ায়াল উইথ রিয়ালিটি। কমিনিউস্টরা সর্বত্র এর জন্যেই বিখ্যাত-পশ্চিম বঙ্গে তাদের অন্তিম যবনিকাগুলোই বা বাদ যাবে কেন?
কাল খেজুরিতে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্ব, যেভাবে সিপিএমের ২০ট পার্টি অফিস পোড়ানো হয়েছে এবং সিপিএম সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি সার্চ করে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, তাতে আমার প্রথমেই চেসেস্কুর শেষ দিনের কথা মনে পড়ল। খেজুরিতেও অস্ত্রবাজ পার্টির গুন্ডাগুলোকে ধরিয়ে দিয়েছে, অতীতে লাল ঝান্ডা তুলে নিতে বাধ্য হওয়া নির্যাতিত জনগণ। ২১ শে ডিসেম্বর চেসেস্কু যে লোকগুলিকে বন্দুকের নল দিয়ে নিজের সমর্থনে নামিয়েছিলেন, ২২ তারিখে পার্টির ভয় থেকে মুক্ত হয়ে, তারাই তাকে ধাওয়া করে। তৃণমুলের এই বিজয়ে, নির্যাতিত্ জনগণ বুঝেছে, সিপিএমকে আর ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ফলে আরাম্ বাগ, খেজুরী, কেশপুর-সর্বত্র যেখানে হার্মাদ বাহিনীর একচেটিয়া রাজত্ব চলত-আজকে সেসব জায়গার নির্যাতিত জনগন সিপিএমের গুন্ডাদের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
সিপিএমের বিরুদ্ধে যেভাবে জনরোষ ফুঁসলে উঠেছে, তাতে আমার মনে হচ্ছে ২০১১ সালের আগেই নির্বাচন হয়ে যাবে। আগামী দুই বছর সিপিএমের পক্ষে কিছু করা সম্ভব হবে না। ইচ্ছা থাকলেও না। এমন অবস্থাতে বুদ্ধদেব বাবু, সরকার ভেঙে দিলে রাজ্য এবং সিপিএম পার্টির আসু মঙ্গল। নইলে প্রতিটি লোকাল থেকে উচ্চ স্তরের নেতাদের চেসেস্কু বানিয়ে ছাড়বে জনগণ। বত্রিশ বছর এই ভাবে মানুষকে নিস্পেষন করার পর, জনগণের এই প্রতিক্রিয়া স্বতস্ফুর্ত।
কে জানে ভবিষ্যতের ইতিহাস হয়ত এটাকেই জুন বিপ্লব বলবে ।
Subscribe to:
Posts (Atom)