Saturday, May 29, 2010

বাংলাদেশে ফেসবুক নিষিদ্ধ! এই ধরনের মূর্খামী আর কতদিন চলবে

বাংলাদেশ একটি ইসলামিক দেশ-এই কথাটা লিখতে মোটেও আমার ভাল লাগে না। কারন এই দেশের লোকেদের যদ্দুর দেখেছি-কেওই খুব উগ্র মুসলমান না। তবুও ইসলামিক রাজনীতির চালে এই দেশটি ধর্ম নিরেপেক্ষ থেকে ইসলামিক হয় এবং বাকী ইসলামিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এর ইসলামিকরন বা আরবীকরন চলতে থাকে। পুরোটাই অবশ্যই শাসক শ্রেনীর স্বার্থে। কারন ধর্ম এবং ধর্মীয় অনুভূতিগুলিকে বাঁচিয়ে রাখলে শোষণ কার্যের সুবিধা হয়। গরীব এবং বঞ্চিতদের শ্রেণীদ্বন্দজনিত ক্ষোভকে ধর্মের আফিং দিয়ে আটকে রাখা যায়। নইলে চোদ্দশ বছরে পুরানো কতগুলো বই আর ইতিহাসের এক বিতর্কিত চরিত্র মহম্মদকে নিয়ে এত নাটক হয় কি করে? আদতে কোরান আর মহম্মদকে দিয়ে দেশ চলে না। দেশ চালাতে সেই বিজ্ঞান আর প্রযুক্তিই লাগে। যে দেশ যত বেশী বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির ব্যাবহার করতে পেরেছে, তারা তত সফল। এটাত একালে একজন বাচ্চাও জানে।সেখানে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ যখন ফেসবুককে নিশিদ্ধ করে বুঝতে হবে, ইসলামিক রাষ্ট্রগুলির রাজনৈতিক ভিত খুব দুর্বল এবং মডারেট মুসলিম নামক হাঁসজারু মুসলিম শ্রেণীটি আসলে শোকেস-এই রাষ্ট্রগুলি পরিচালিত হয় গোডাউনের মালে।

ফেসবুককে আটকানো আর জোয়ারের জলকে আটকানোর চেষ্টা করা একই ব্যাপার। স্যোশাল নেটোয়ার্কিং একটা ইরিভার্সিবল মুভমেন্ট। জিমেইল, ইয়াহুও আস্তে আস্তে সোশ্যাল নেটোওয়ার্কিং এর দিকে যাচ্ছে। এবার কি তাহলে জিমেল, ইয়াহু মেইল বন্ধ হবে? যে ইসলাম বিরোধি পেজের জন্যে ফেসবুক নিশিদ্ধ হল, তার থেকে হাজারগুন বেশী ইসলাম বিরোধিতা চলে মুক্তমনা, সচলায়তন ব্লগ সাইটগুলোতে। বাংলাদেশের এই ব্লগ সাইটগুলো বাংলাভাষা সাহিত্য এবং জ্ঞান বিজ্ঞানে নতুন জোয়ার এনেছে। এবার কি এদের পালা? ইসলাম বিরোধিতার ধুয়োতুলে এই ধরনের নির্বোধ ছাগলামী কবে থামবে? এই সব রাষ্ট্রনেতাগণ কি বুঝতে পারছেন এই ধরনের বালখিল্য সিদ্ধান্তে গোটা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ইমেজটা কি হচ্ছে? পাকিস্তানের না হয় ইমেজের দায় নেই। সবাই জানে ওই দেশটা গাধার ঘারে গেছে। কিন্ত বাংলাদেশের এই নতুন প্রগতিশীল সরকার যে তালিবানি সিদ্ধান্ত নিল-তাতে গোটা বিশ্বের কাছে এটাই প্রমাণিত হল বাংলাদেশ একটি মৌলবাদি রাষ্ট্র। এখন ত দেখছি মডারেট মুসলিম বলে আসলে সত্যিই কিছু নেই।

ফেসবুক আটকানোতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি না হলেও, ইমেজের ক্ষতি হবে সাংঘাতিক। বাংলাদেশ যে মড়ারেট নয় একটা মোল্লা রাষ্ট্র সেটাই গোটা বিশ্ব জানবে। বাস্তবেও কিছু ক্ষতি অবশ্যই আছে। ফেসবুক বাংলাসাহিত্যের সব থেকে বেশী ফার্টাইল গ্রাউন্ড হয়ে উঠেছিল। আমার নিজের ফেসবুক ফ্রেইন্ড প্রফাইলে আছে ৫০০ র বেশী বাংলাদেশী। তারা কিছু লিখলে, সব সময় আমাকে ট্যাগ করেন। বস্তুত ফেসবুকের মাধ্যমে দুই বাংলার সাহিত্য আদানপ্রদান বেশ জমে উঠেছিল। দুই বাংলা এক হয়ে উঠছিল। কারন ভারতীয় বাঙালীদের আরেকটি জনপ্রিয় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট অর্কুটে বাংলাদেশী খুব বেশী নেই। ফেসবুকই ছিল একমাত্র জায়গা যেখানে দুই দেশের বাঙালীরা মিলিত্ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন। আমরা এবার রবীন্দ্রজয়ন্তী করলাম ফেসবুকের মাধ্যমে-সেখানেও ২৩০০ জন গেস্টের মধ্যে প্রায় ৭০০ জন ছিল বাংলাদেশ থেকে। কুষ্টিয়া সহ বাংলাদেশের নানান প্রান্ত থেকে আমি ইমেল পেয়েছি। ফেসবুক দুই বাংলার মধ্যে গড়ে ওঠা কাঁটাতারের বেড়া ভেঙে ফেলছিল। আমাদের সাহিত্য, গান এবং নাটকের গ্রুপেও প্রায় ৩০% বাংলাদেশী যা্রা নানান বাংলাদেশী ইপত্রিকা, গান এবং নাটকের সাথে ভারতীয় বাঙালীদের পরিচয় করাচ্ছিলেন যারা এত দিন বাংলাদেশ এবং তার সাহিত্য নিয়ে কিছুই জানতেন না।এদের ভারতীয় বাঙালী বলাই ঠিক হবে, কারন আমি ডেমোগ্রাফি নিয়ে দেখেছি দিল্লী, মুম্বাই থেকে প্রায় কোলকাতার সমান বাঙালী এই গ্রুপ গুলোতে আছে। আমি আশান্বিত ছিলাম, এই ভাবে আস্তে আস্তে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ বাংলা সংস্কৃতি ভারতীয় বাঙালীদের কাছে পৌঁছে যাবে। ইসলাম নামে এক অচলায়তন যা বাঙালী জাতিকে বিভক্ত করেছিল, তা আবার বাঙালীর ঐক্যের পথে কাঁটা হয়ে রইল।

আমার সত্যিই ক্ষোভ জানানোর ভাষা নেই। এই ধরনের অরিণত বালক বালিকাকূল যদি কোন দেশের রাষ্ট্রনায়ক হন, সেই দেশকে সত্যই আল্লা ছাড়া কেও বাঁচাতে পারবে না।

Thursday, May 27, 2010

মাওবাদি জঞ্জাল কবে পরিষ্কার হইবে?

আবার হইল।

এবার মাওবাদিরা বিষ্ফোরন ঘটালো হাওড়া-কুড়লা এক্সপ্রেসে। শতাধিক নিহত হওয়ার আশঙ্কা।

আমি প্রথম থেকেই বলে আসছি, এটা গৃহযুদ্ধ। দুর্ভাগ্যজনক হলেও আমদের মানতে হবে আমরাই এই যুদ্ধের জনক। আদিবাসিদের প্রতি বঞ্চনা, তাদের হাতের রাইফেলের নল হয়ে বেড়চ্ছে-এই কথাগুলি যতটা সত্য, ততটাই সত্য
আদিবাসিদের ভুল পথে পরিচালনা করা হচ্ছে। কমিনিউস্ট সোভিয়েত ইউনিয়ান এবং চীনে আদিবাসীদের ওপর যে অত্যাচার হয়েছে, তা ইতিহাসে তুলনাহীন। সুতরাং এই বঞ্চনার উত্তর ছিল উন্নততর গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে-কমিনিউজমের মতন হঠকারি মানুষ খুনের তত্ত্বে না।

কিন্ত অবস্থা এখন যা দাঁড়িয়েছে, কড়া হাতে মাওবাদি এবং সিভিল সমাজে লুকিয়ে থাকা তাদের সমর্থকদের খুঁজে খুঁজে বাড় করতেই হবে। তার মানে অবশ্যই এই নয় যে, যে সব ভ্রান্ত তরুণ তরুনীরা কমিনিউস্ট স্বর্গের রূপকথায় ভুলে মাওবাদিদের সমর্থক হয়েছে তাদের জেলে পুড়তে হবে। মোটেও তা না-কিন্ত তাদের চিহ্নিত করা দরকার সাপ্লাই লাইন কেটে দেওয়ার জন্যে। গোটা দেশে মাওবাদিদের বিরুদ্ধে জনগণের বিক্ষোভকে কাজে লাগাতে না পারলে এই গৃহযুদ্ধ ইস্রায়েল থেকে সিকিউরিটি ইকুইপমেন্ট দিয়ে জেতা যাবে না। ভারতীয় জনগণের মনে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে সঙ্গত কারনেই ক্ষোভ আছে-এবং সেটাই মাওবাদিদের সেরা অস্ত্র। সুতরাং আদিবাসি এলাকাগুলোতে, খনিমালিকদের বিরুদ্ধে মানুষের অধিকার ফেরানোর লড়াইটাই আসল গৃহযুদ্ধ।

কমিনিউজমের ইতিহাসে চারিদিকে শুধু রক্ত। কারন এই আদর্শবাদ বিশ্বাস করে মানুষের থেকে সমাজ এবং পার্টি বড়! তাই মানুষ তাদের এক্সপেরিমেন্টের গিনিপিগ। মাওবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এ কমিনিউজম নামক দৈত্যটার সাথে মানুষের সম্যক পরিচয় করাতে হবে-নইলে মাওবাদ, লেনিনবাদ ইত্যাদি মানুষ খুনকরা মতবাদগুলির পাঁকে পড়ে আরো বেশী সংখ্যক তরুন মাওবাদি হবে। তাত্বিক সাপ্লাইলাইন না কাটলে, মাওবাদ ধ্বংশ হবে না।

Monday, March 8, 2010

ডেটাবাজার মিডিয়ার সৌজন্যে নতুন বাংলা সিনেমা প্রথম দিনই মুক্তি পাচ্ছে আমেরিকাতে

বাঙালী সংস্কৃতি ছাড়া বাঁচতে পারে না। সেই জন্যে এই উত্তর আমেরিকার প্রবাসেও ৪০টি বাংলা নাটকের দল! ততোধিক দুর্গাপূজা। ঢেঁকির স্বর্গে গিয়ে ধান ভাঙা। কিন্ত নতুন রিলিজ হওয়া বাংলা সিনেমা আমেরিকাতে পাওয়া যেত না। তিন চার মাস বাদে ডিভিডির নকল কপি আমেরিকার দেশী মুদির দোকানগুলিতে আসত-যার অধিকাংশই পাইরেটেড ডিভিডি। অর্ধেক চালানোর পর আটকে যেত। সেই দিনগুলি আজ ইতিহাস হতে চলেছে।

ডেটাবাজার মিডিয়ার সি ই ও অনি শীল নতুন রিলিজ হওয়া বাংলা সিনেমাকে আমেরিকাতে আনছেন রিলিজের একদম প্রথম দিন থেকে। এবার থেকে প্রতিটা বাংলা নিউ রিলিজ নেটফ্লিক্স, আই টিউন, ব্লক ব্লাস্টারে রিলিজের একদম প্রথম দিন থেকেই পাওয়া যাবে (press release)। প্রথম যে সিনেমাটি উত্তর আমেরিকাতে পাওয়া যাচ্ছে-সেটি হচ্ছে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অনন্যা ও কৌশিক অভিনীত সুমন ঘোষ পরিচালিত সিনেমা দ্বন্দ্ব (ট্রেলার দেখুন) । কলকাতার সিনেমা হল গুলিতে ১৬ তারিখেই রিলিজ করবে দ্বন্দ্ব (ওয়েবসাইট)। আর ওই দিনেই ডেটাবাজারের সৌজন্যে দ্বন্দ্ব পৌছে যাবে বিশ্বের কোনায় কোনায়।


Sunday, January 17, 2010

ভূমি সংস্কার ছাড়া জ্যোতি বাবুর ঝুলিতে সাফল্য বলতে আর কি আছে?

ভূমি সংস্কার ছাড়া জ্যোতি বাবুর ঝুলিতে সাফল্য বলতে আর কি আছে?
গ্রামের শ্রমিকদের রোজ পশ্চিম বঙ্গে সব থেকে কম। শিল্প উনার পোষ্যপুত্র সিটুর অত্যাচারে সুরসুর করে পশ্চিমবঙ্গ ছেড়েছে। ক্ষুদ্র শিপ্লের জন্যে বিদ্যুতের জোগান টুকুও ঠিক ঠাক দিতে পারেন নি। গ্রামে জমিদারদের বদলে পার্টির নেতারা শোষকের স্থান নিয়েছে। সরকারি অফিসগুলোকে কোর্ডিনেশন কমিটির অফিস উনিই বানিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষকতা এবং উপাচার্য্য হওয়ার একমাত্র কোয়ালিফিকেশন হচ্ছে লাল রঙের গেঞ্জী এবং জাঙ্গিয়া পড়ে ঘুরে বেড়ানো। মধ্যম মেধায় ছেয়ে গেছে পশ্চিম বঙ্গের শিক্ষায়াতনগুলি। বাংলা সিনেমা প্রায় উঠে গেছে। পার্ট গেঁষা নাট্যকার না হলে এই রাজ্যে টিকে থাকা মুশকিল।
একটা সেমি-ফ্যাসিস্ট স্বৈরতন্ত্রের তিনি জনক এবং বিধাতা। হিটলার এবং স্টালিনের ঝুলিতে তাও কিছু সাফল্য ছিল। কিন্ত এমন একটা মধ্যম মেধার চূড়ান্ত ব্যার্থ মুখ্যমন্ত্রী যিনি দ্বায়িত্ব নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যত এবং বর্তমানকে বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করেছেন-তাকে নিয়ে নাচানাচি দেখে রাজ্যবাসী হিসাবে আমি লজ্জিত। স্তম্ভিত।

না। উনি চূড়ান্ত ব্যার্থ একজন নেতা হিসাবেই ইতিহাসে জায়গা করে নেবেন। যারা একটা জাতি বা সভ্যতাকে ধ্বংশের পথে নিয়ে যায়-ইতিহাসের তাদেরও জায়গা থাকে।

Thursday, January 14, 2010

হরিপুরে বিদ্যুত কেন্দ্রের ব্যাপারে তৃনমূল সদার্থক ভুমিকা নিক।

হরিপুরে বিদ্যুত কেন্দ্রের ব্যাপারে তৃনমূল সদার্থক ভুমিকা নিক


টাটা তথা শিল্প খেদানোর পর এই রাজ্যকে ডোবানোর আরেকটা নোংরা খেলা শুরু হয়েছে। সেটা হচ্ছে হরিপুর।

পরমানু বিদ্যুত ছারা এই মুহুর্তে তাপবিদ্যুতের আর কোন বিকল্প নেই। সোলার বা উইন্ড রিয়ালেবল না। যদ্দিন না হাইড্রোজেন চুল্লী না আসে, ইউরেনিয়াম চুল্লীতেই চলবে গোটা পৃথিবী। আর দেখে শুনে মনে হচ্ছে বাম বাঙালী মনে করে ঢপে চপের ওপর চলে পৃথিবী।

বিদ্যুত না হলে পশ্চিম বঙ্গের শিল্পায়ন সম্ভব না। কিছুই সম্ভব না প্রাক্টিক্যালি।

এই ব্যাপারে বুদ্ধ সদর্থক। কিন্ত মমতা রাজনীতি করে হরিপুর পন্ড করতে চাইছেন। এই ধরনের নোংরা রাজনীতি করে উনি পশ্চিম বঙ্গকে শিল্প শ্বশান বানিয়েছেন। বেকারদের ভাত খেয়েছেন। এবার উনি ছোট ছোট শিল্প গুলোকে বিদ্যুত না দিয়ে মারবেন। এই সর্বনাশা বামধারা পশ্চিম বঙ্গে বন্ধ হৌক।

পরিবর্তন হোক-সমগ্র বঙ্গই আজ তা চাইছে। কিন্ত রাজ্যের স্বার্থকে ধ্বংশ করে যেভাবে তৃণমূলের সিপিএমকরন হচ্ছে, তাতে একটা সিপি এম পার্টিকে সরিয়ে আরেকটা আসবে বলেই মনে হচ্ছে।

মমতা ব্যানার্জিকে রাজ্য রাজনীতির উর্ধে উঠে, এই রাজ্যের বেকার ব্যাবসায়ীদের কথা ভাবতে হবে আগে। উনি কমিনিউস্টদের অত্যাচার থেকে রাজ্যবাসীকে রক্ষা করেছেন-আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্ত এই ভাবে রাজ্যের রুজি রোজগারে উনি থাবা মারতে পারেন না।

Thursday, December 17, 2009

ডিপ্লোমা ডাক্তার বিতর্ক-সূর্য্যকান্তর সঠিক পদক্ষেপ

প্রতিদিন, আনন্দবাজারের রিপোর্ট দেখলাম। সূর্যকান্তর এই নিয়ে মুন্ডপাত করা হচ্ছে। এদেশেও নিউ হেলথকেয়ার বিল নিয়ে রিপাবলিকান মিডিয়া ওবামার মুন্ডপাত করছে। আমি মনে করি এই বিরোধিতা সুস্থ গণতন্ত্রের লক্ষন। কিন্ত এই রাজ্যে যুক্তির ভাষা কোথাও পেলাম না।

আমার ব্যাক্তিগত পজিশন সুর্য্যবাবুর পক্ষে। আমি নিজের পক্ষের যুক্তিগুলো দিতে চাই ( কেও যেন না ভাবেন, আমি সিপিএম কে সমর্থন করছি। প্রশ্নই ওঠে না। আমি সুধু এই ইস্যুতে সূর্য্যকান্তের পদক্ষেপ সঠিক বলে মনে করছি।)
(১) প্রথম বিরোধি যুক্তি-এরা পর্যাপ্ত শিক্ষার অভাবে ভুল চিকিৎসা করতে পারে।আমি মানতে রাজি না। কারন

১১) খুব বড় চিকিৎসক ও ভুল চিকিৎসা করে। আমার জীবনে যত না ঠিক চিকিৎসা পেয়েছি ভুল চিকিৎসা পেয়েছি তার থেকে অনেক বেশী। এবং তাদের সবাই বিদেশী ডিগ্রিধারি। আমি সব থেকে বেশী ঠিক চিকিৎসা পেয়েছি আমার ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানের কাছ থেকে। যার বাংলাদেশ থেকে একটা এম বি বি এস আছে। সবটাই অভিজ্ঞতা এবং বুদ্ধির খেলা।
১২) চিকিৎসাবিদ্যা যতনা পুঁথির-তার থেকেও অনেক অনেক বেশী অভিজ্ঞতার। যেকোন ডাক্তার ও এটা স্বীকার করবে।

১৩) পেটে ব্যাথা, পেট খারাপ, ফ্লু ইত্যাদি হলে আমরাই কি আজকাল ডাক্তারের কাছে যাই? নিজেরদের চিকিৎসা নিজেরাই করছি। কেন? এইসব সাধারন জ্ঞান এখন সবার আছে। কিন্ত চিন্তা করুন এইটুকু জ্ঞান কিন্ত গ্রামের লোকেদের নেই। আমার ডাইরিয়া হলে, আমি জানি ঠিক কি করতে হবে, কি ওশুধ খাব। ডাইরিয়া হলে আমি ডাক্তারের কাছে যায় না। গ্রামে কিন্ত এটা অনেকেই জানে না। শুধু এইটুকু সাহায্য দিতে পারলেই অনেকলোক বেঁচে যাবে।
(২) আমেরিকাতে সি এন আর নার্সরা কিন্ত চিকিৎসা করে। প্রথমে আমাদের নার্সের কাছেই যেতে হয়।সহজ কেস হলে, তিনিই ওশুধ দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। সবকেসে ডাক্তার মোটেও দেখে না। আমেরিকাতে এটা হলে আমাদের দেশে কেন সম্ভব না?

(৩) গ্রামের বাস্তবটাও বুঝতে হবে। একটা গ্রাম থেকে মফঃশহরে আসতে-যেখানে গ্রামীন স্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে৪-১০ মাইল পথ। গরুর গাড়িতে চেপে আসে-অধুনা ভটভটি ভ্যান। আমার অভিজ্ঞতা হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে কেসটা খুব বাজে হয়ে গেলে তবে ওরা আসে। গ্রামে হাতের কাছেই ডাক্তার থাকলে-প্রাথমিক চিকিৎসাটা করে দিলে এই সমস্যা হত না। এই জন্যেই আমেরিকাতে প্যারামেডিকরা আছে।
**********লন্ডন থেকে বিকাশ বাবুর সংযোজন**************
পশ্চিম বঙ্গে তথা সারা দেশে অনেক মেডিক্যাল কলেজে ৫০ বছর আগেও LMS, LMF এই ধরনের licentiate ডিপ্লোমা দেওয়া হত এবং এই সকল ডাক্তার গ্রামে গ্রামে বহু বছর প্রাথমিক চিকিৎসা যথেষ্ট সুনামের সঙ্গে করেছেন - এবং ডাক্তার হিসেবেও তারা খুব খারাপ ছিলেন না । এই প্রসঙ্গে বলি রাখি যে MB (অধুনা MBBS) সঙ্গে সঙ্গে MF/LMS পাঠ্যক্রমও পড়ানো হত। এই ডিপ্লোমা কিন্তু Paramedic জাতীয় নয় - তার থেকে অনেক এডভ্যান্সড।। Medical Council of India এখনো এই ডিপ্লোমাগুলি কে রিকোজনিশন দেয়ঃhttp://mciindia.org/know/acts/schedule3.htmএইটা দেখার অনুরোধ করলাম ।।

Sunday, November 22, 2009

বঙ্গের ভ্রান্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে জনচেতনা মঞ্ছ তৈরী করছেন সইফুদ্দিন চৌধুরী, সোমনাথ চ্যাটার্জি

পশ্চিম বঙ্গ ভারতের সব থেকে বেশী হিংসা কবলিত রাজ্য। কাশ্মীর এবং উত্তর-পূর্বের সন্ত্রাসকে হার মানিয়েছে পশ্চিম বঙ্গের রাজনৈতিক সন্ত্রাস। রাজনৈতিক পরিবর্তন এই রাজ্যে অবশ্যই আসছে-কিন্ত আসছে না উন্নয়ন, শান্তি এবং সমৃদ্ধি। অত্যাচারী এবং স্বৈরাচারীরা জামাকাপড় বদলের মতন পার্টি বদল করছে। কিন্ত রাজবেশ পালটালেই কি আর কংসরাজরা বদলাবে? তাই পরিবর্তন আসছে এটা যেমন আশার কথা-কিন্তু ঠিক কি পরিবর্তন আসছে-সেখানে শুধুই একরাশ নৈরাশ্য।

তাই একটি নাগরিক মঞ্ছ পশ্চিম বঙ্গে ভীষনভাবে দরকার। যা হবে অরাজনৈতিক। জনগনের অভাব অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক পার্টি গুলির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারবে। আমাদের রাজ্যের অধিকাংশ লোক আজও দেশ এবং দেশের লোককে পার্টির চেয়ে বেশী ভালবাসে। কিন্ত তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণের কুম্ভীপাকে রাজ্যের জনগনের সামনে অধিকাংস সময় বিকল্প পথ খোলা থাকে না। জনচেতনা মঞ্চ সেই অভাব দূর করবে। রাজ্যকে হিংসামুক্ত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা ভীষন ভাবেই দরকার। পার্টির ওপরে রাজ্য এবং রাজ্যবাসী-এই চেতনার বৃদ্ধি আজ সর্বত্র দরকার পশ্চিম বঙ্গে।

তাই এই নতুন নাগরিক মঞ্চ গড়ার কাজে এগিয়ে এসেছেন সইফুদ্দিন চৌধুরী, প্রাত্তন স্পীকার সোমনাথ চ্যাটার্জি, বিশিষ্ঠ অর্থনীতিবিদ অম্লান দত্ত এবং আরো অনেক বিশিষ্ঠ নাগরিক। খুব শীঘ্রই মঞ্চের কর্মসূচী এবং কমিটি গঠন করা হবে।

আপনারা যারা এই উদ্যোগে যোগ দিতে চান-তারা এই ফোরামে যোগ দিয়ে আপনাদের মতামত জানান।
http://groups.google.com/group/janachetanamancha