আবার হইল।
এবার মাওবাদিরা বিষ্ফোরন ঘটালো হাওড়া-কুড়লা এক্সপ্রেসে। শতাধিক নিহত হওয়ার আশঙ্কা।
আমি প্রথম থেকেই বলে আসছি, এটা গৃহযুদ্ধ। দুর্ভাগ্যজনক হলেও আমদের মানতে হবে আমরাই এই যুদ্ধের জনক। আদিবাসিদের প্রতি বঞ্চনা, তাদের হাতের রাইফেলের নল হয়ে বেড়চ্ছে-এই কথাগুলি যতটা সত্য, ততটাই সত্য
আদিবাসিদের ভুল পথে পরিচালনা করা হচ্ছে। কমিনিউস্ট সোভিয়েত ইউনিয়ান এবং চীনে আদিবাসীদের ওপর যে অত্যাচার হয়েছে, তা ইতিহাসে তুলনাহীন। সুতরাং এই বঞ্চনার উত্তর ছিল উন্নততর গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে-কমিনিউজমের মতন হঠকারি মানুষ খুনের তত্ত্বে না।
কিন্ত অবস্থা এখন যা দাঁড়িয়েছে, কড়া হাতে মাওবাদি এবং সিভিল সমাজে লুকিয়ে থাকা তাদের সমর্থকদের খুঁজে খুঁজে বাড় করতেই হবে। তার মানে অবশ্যই এই নয় যে, যে সব ভ্রান্ত তরুণ তরুনীরা কমিনিউস্ট স্বর্গের রূপকথায় ভুলে মাওবাদিদের সমর্থক হয়েছে তাদের জেলে পুড়তে হবে। মোটেও তা না-কিন্ত তাদের চিহ্নিত করা দরকার সাপ্লাই লাইন কেটে দেওয়ার জন্যে। গোটা দেশে মাওবাদিদের বিরুদ্ধে জনগণের বিক্ষোভকে কাজে লাগাতে না পারলে এই গৃহযুদ্ধ ইস্রায়েল থেকে সিকিউরিটি ইকুইপমেন্ট দিয়ে জেতা যাবে না। ভারতীয় জনগণের মনে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে সঙ্গত কারনেই ক্ষোভ আছে-এবং সেটাই মাওবাদিদের সেরা অস্ত্র। সুতরাং আদিবাসি এলাকাগুলোতে, খনিমালিকদের বিরুদ্ধে মানুষের অধিকার ফেরানোর লড়াইটাই আসল গৃহযুদ্ধ।
কমিনিউজমের ইতিহাসে চারিদিকে শুধু রক্ত। কারন এই আদর্শবাদ বিশ্বাস করে মানুষের থেকে সমাজ এবং পার্টি বড়! তাই মানুষ তাদের এক্সপেরিমেন্টের গিনিপিগ। মাওবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এ কমিনিউজম নামক দৈত্যটার সাথে মানুষের সম্যক পরিচয় করাতে হবে-নইলে মাওবাদ, লেনিনবাদ ইত্যাদি মানুষ খুনকরা মতবাদগুলির পাঁকে পড়ে আরো বেশী সংখ্যক তরুন মাওবাদি হবে। তাত্বিক সাপ্লাইলাইন না কাটলে, মাওবাদ ধ্বংশ হবে না।
Thursday, May 27, 2010
Monday, March 8, 2010
ডেটাবাজার মিডিয়ার সৌজন্যে নতুন বাংলা সিনেমা প্রথম দিনই মুক্তি পাচ্ছে আমেরিকাতে
বাঙালী সংস্কৃতি ছাড়া বাঁচতে পারে না। সেই জন্যে এই উত্তর আমেরিকার প্রবাসেও ৪০টি বাংলা নাটকের দল! ততোধিক দুর্গাপূজা। ঢেঁকির স্বর্গে গিয়ে ধান ভাঙা। কিন্ত নতুন রিলিজ হওয়া বাংলা সিনেমা আমেরিকাতে পাওয়া যেত না। তিন চার মাস বাদে ডিভিডির নকল কপি আমেরিকার দেশী মুদির দোকানগুলিতে আসত-যার অধিকাংশই পাইরেটেড ডিভিডি। অর্ধেক চালানোর পর আটকে যেত। সেই দিনগুলি আজ ইতিহাস হতে চলেছে।ডেটাবাজার মিডিয়ার সি ই ও অনি শীল নতুন রিলিজ হওয়া বাংলা সিনেমাকে আমেরিকাতে আনছেন রিলিজের একদম প্রথম দিন থেকে। এবার থেকে প্রতিটা বাংলা নিউ রিলিজ নেটফ্লিক্স, আই টিউন, ব্লক ব্লাস্টারে রিলিজের একদম প্রথম দিন থেকেই পাওয়া যাবে (press release)। প্রথম যে সিনেমাটি উত্তর আমেরিকাতে পাওয়া যাচ্ছে-সেটি হচ্ছে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অনন্যা ও কৌশিক অভিনীত সুমন ঘোষ পরিচালিত সিনেমা দ্বন্দ্ব (ট্রেলার দেখুন) । কলকাতার সিনেমা হল গুলিতে ১৬ তারিখেই রিলিজ করবে দ্বন্দ্ব (ওয়েবসাইট)। আর ওই দিনেই ডেটাবাজারের সৌজন্যে দ্বন্দ্ব পৌছে যাবে বিশ্বের কোনায় কোনায়।

Sunday, January 17, 2010
ভূমি সংস্কার ছাড়া জ্যোতি বাবুর ঝুলিতে সাফল্য বলতে আর কি আছে?
ভূমি সংস্কার ছাড়া জ্যোতি বাবুর ঝুলিতে সাফল্য বলতে আর কি আছে?
গ্রামের শ্রমিকদের রোজ পশ্চিম বঙ্গে সব থেকে কম। শিল্প উনার পোষ্যপুত্র সিটুর অত্যাচারে সুরসুর করে পশ্চিমবঙ্গ ছেড়েছে। ক্ষুদ্র শিপ্লের জন্যে বিদ্যুতের জোগান টুকুও ঠিক ঠাক দিতে পারেন নি। গ্রামে জমিদারদের বদলে পার্টির নেতারা শোষকের স্থান নিয়েছে। সরকারি অফিসগুলোকে কোর্ডিনেশন কমিটির অফিস উনিই বানিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষকতা এবং উপাচার্য্য হওয়ার একমাত্র কোয়ালিফিকেশন হচ্ছে লাল রঙের গেঞ্জী এবং জাঙ্গিয়া পড়ে ঘুরে বেড়ানো। মধ্যম মেধায় ছেয়ে গেছে পশ্চিম বঙ্গের শিক্ষায়াতনগুলি। বাংলা সিনেমা প্রায় উঠে গেছে। পার্ট গেঁষা নাট্যকার না হলে এই রাজ্যে টিকে থাকা মুশকিল।
একটা সেমি-ফ্যাসিস্ট স্বৈরতন্ত্রের তিনি জনক এবং বিধাতা। হিটলার এবং স্টালিনের ঝুলিতে তাও কিছু সাফল্য ছিল। কিন্ত এমন একটা মধ্যম মেধার চূড়ান্ত ব্যার্থ মুখ্যমন্ত্রী যিনি দ্বায়িত্ব নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যত এবং বর্তমানকে বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করেছেন-তাকে নিয়ে নাচানাচি দেখে রাজ্যবাসী হিসাবে আমি লজ্জিত। স্তম্ভিত।
না। উনি চূড়ান্ত ব্যার্থ একজন নেতা হিসাবেই ইতিহাসে জায়গা করে নেবেন। যারা একটা জাতি বা সভ্যতাকে ধ্বংশের পথে নিয়ে যায়-ইতিহাসের তাদেরও জায়গা থাকে।
গ্রামের শ্রমিকদের রোজ পশ্চিম বঙ্গে সব থেকে কম। শিল্প উনার পোষ্যপুত্র সিটুর অত্যাচারে সুরসুর করে পশ্চিমবঙ্গ ছেড়েছে। ক্ষুদ্র শিপ্লের জন্যে বিদ্যুতের জোগান টুকুও ঠিক ঠাক দিতে পারেন নি। গ্রামে জমিদারদের বদলে পার্টির নেতারা শোষকের স্থান নিয়েছে। সরকারি অফিসগুলোকে কোর্ডিনেশন কমিটির অফিস উনিই বানিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষকতা এবং উপাচার্য্য হওয়ার একমাত্র কোয়ালিফিকেশন হচ্ছে লাল রঙের গেঞ্জী এবং জাঙ্গিয়া পড়ে ঘুরে বেড়ানো। মধ্যম মেধায় ছেয়ে গেছে পশ্চিম বঙ্গের শিক্ষায়াতনগুলি। বাংলা সিনেমা প্রায় উঠে গেছে। পার্ট গেঁষা নাট্যকার না হলে এই রাজ্যে টিকে থাকা মুশকিল।
একটা সেমি-ফ্যাসিস্ট স্বৈরতন্ত্রের তিনি জনক এবং বিধাতা। হিটলার এবং স্টালিনের ঝুলিতে তাও কিছু সাফল্য ছিল। কিন্ত এমন একটা মধ্যম মেধার চূড়ান্ত ব্যার্থ মুখ্যমন্ত্রী যিনি দ্বায়িত্ব নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যত এবং বর্তমানকে বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করেছেন-তাকে নিয়ে নাচানাচি দেখে রাজ্যবাসী হিসাবে আমি লজ্জিত। স্তম্ভিত।
না। উনি চূড়ান্ত ব্যার্থ একজন নেতা হিসাবেই ইতিহাসে জায়গা করে নেবেন। যারা একটা জাতি বা সভ্যতাকে ধ্বংশের পথে নিয়ে যায়-ইতিহাসের তাদেরও জায়গা থাকে।
Thursday, January 14, 2010
হরিপুরে বিদ্যুত কেন্দ্রের ব্যাপারে তৃনমূল সদার্থক ভুমিকা নিক।
হরিপুরে বিদ্যুত কেন্দ্রের ব্যাপারে তৃনমূল সদার্থক ভুমিকা নিক
টাটা তথা শিল্প খেদানোর পর এই রাজ্যকে ডোবানোর আরেকটা নোংরা খেলা শুরু হয়েছে। সেটা হচ্ছে হরিপুর।
পরমানু বিদ্যুত ছারা এই মুহুর্তে তাপবিদ্যুতের আর কোন বিকল্প নেই। সোলার বা উইন্ড রিয়ালেবল না। যদ্দিন না হাইড্রোজেন চুল্লী না আসে, ইউরেনিয়াম চুল্লীতেই চলবে গোটা পৃথিবী। আর দেখে শুনে মনে হচ্ছে বাম বাঙালী মনে করে ঢপে চপের ওপর চলে পৃথিবী।
বিদ্যুত না হলে পশ্চিম বঙ্গের শিল্পায়ন সম্ভব না। কিছুই সম্ভব না প্রাক্টিক্যালি।
এই ব্যাপারে বুদ্ধ সদর্থক। কিন্ত মমতা রাজনীতি করে হরিপুর পন্ড করতে চাইছেন। এই ধরনের নোংরা রাজনীতি করে উনি পশ্চিম বঙ্গকে শিল্প শ্বশান বানিয়েছেন। বেকারদের ভাত খেয়েছেন। এবার উনি ছোট ছোট শিল্প গুলোকে বিদ্যুত না দিয়ে মারবেন। এই সর্বনাশা বামধারা পশ্চিম বঙ্গে বন্ধ হৌক।
পরিবর্তন হোক-সমগ্র বঙ্গই আজ তা চাইছে। কিন্ত রাজ্যের স্বার্থকে ধ্বংশ করে যেভাবে তৃণমূলের সিপিএমকরন হচ্ছে, তাতে একটা সিপি এম পার্টিকে সরিয়ে আরেকটা আসবে বলেই মনে হচ্ছে।
মমতা ব্যানার্জিকে রাজ্য রাজনীতির উর্ধে উঠে, এই রাজ্যের বেকার ব্যাবসায়ীদের কথা ভাবতে হবে আগে। উনি কমিনিউস্টদের অত্যাচার থেকে রাজ্যবাসীকে রক্ষা করেছেন-আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্ত এই ভাবে রাজ্যের রুজি রোজগারে উনি থাবা মারতে পারেন না।
Thursday, December 17, 2009
ডিপ্লোমা ডাক্তার বিতর্ক-সূর্য্যকান্তর সঠিক পদক্ষেপ
প্রতিদিন, আনন্দবাজারের রিপোর্ট দেখলাম। সূর্যকান্তর এই নিয়ে মুন্ডপাত করা হচ্ছে। এদেশেও নিউ হেলথকেয়ার বিল নিয়ে রিপাবলিকান মিডিয়া ওবামার মুন্ডপাত করছে। আমি মনে করি এই বিরোধিতা সুস্থ গণতন্ত্রের লক্ষন। কিন্ত এই রাজ্যে যুক্তির ভাষা কোথাও পেলাম না।
আমার ব্যাক্তিগত পজিশন সুর্য্যবাবুর পক্ষে। আমি নিজের পক্ষের যুক্তিগুলো দিতে চাই ( কেও যেন না ভাবেন, আমি সিপিএম কে সমর্থন করছি। প্রশ্নই ওঠে না। আমি সুধু এই ইস্যুতে সূর্য্যকান্তের পদক্ষেপ সঠিক বলে মনে করছি।)
(১) প্রথম বিরোধি যুক্তি-এরা পর্যাপ্ত শিক্ষার অভাবে ভুল চিকিৎসা করতে পারে।আমি মানতে রাজি না। কারন
১১) খুব বড় চিকিৎসক ও ভুল চিকিৎসা করে। আমার জীবনে যত না ঠিক চিকিৎসা পেয়েছি ভুল চিকিৎসা পেয়েছি তার থেকে অনেক বেশী। এবং তাদের সবাই বিদেশী ডিগ্রিধারি। আমি সব থেকে বেশী ঠিক চিকিৎসা পেয়েছি আমার ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানের কাছ থেকে। যার বাংলাদেশ থেকে একটা এম বি বি এস আছে। সবটাই অভিজ্ঞতা এবং বুদ্ধির খেলা।
১২) চিকিৎসাবিদ্যা যতনা পুঁথির-তার থেকেও অনেক অনেক বেশী অভিজ্ঞতার। যেকোন ডাক্তার ও এটা স্বীকার করবে।
১৩) পেটে ব্যাথা, পেট খারাপ, ফ্লু ইত্যাদি হলে আমরাই কি আজকাল ডাক্তারের কাছে যাই? নিজেরদের চিকিৎসা নিজেরাই করছি। কেন? এইসব সাধারন জ্ঞান এখন সবার আছে। কিন্ত চিন্তা করুন এইটুকু জ্ঞান কিন্ত গ্রামের লোকেদের নেই। আমার ডাইরিয়া হলে, আমি জানি ঠিক কি করতে হবে, কি ওশুধ খাব। ডাইরিয়া হলে আমি ডাক্তারের কাছে যায় না। গ্রামে কিন্ত এটা অনেকেই জানে না। শুধু এইটুকু সাহায্য দিতে পারলেই অনেকলোক বেঁচে যাবে।
(২) আমেরিকাতে সি এন আর নার্সরা কিন্ত চিকিৎসা করে। প্রথমে আমাদের নার্সের কাছেই যেতে হয়।সহজ কেস হলে, তিনিই ওশুধ দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। সবকেসে ডাক্তার মোটেও দেখে না। আমেরিকাতে এটা হলে আমাদের দেশে কেন সম্ভব না?
(৩) গ্রামের বাস্তবটাও বুঝতে হবে। একটা গ্রাম থেকে মফঃশহরে আসতে-যেখানে গ্রামীন স্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে৪-১০ মাইল পথ। গরুর গাড়িতে চেপে আসে-অধুনা ভটভটি ভ্যান। আমার অভিজ্ঞতা হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে কেসটা খুব বাজে হয়ে গেলে তবে ওরা আসে। গ্রামে হাতের কাছেই ডাক্তার থাকলে-প্রাথমিক চিকিৎসাটা করে দিলে এই সমস্যা হত না। এই জন্যেই আমেরিকাতে প্যারামেডিকরা আছে।
**********লন্ডন থেকে বিকাশ বাবুর সংযোজন**************
পশ্চিম বঙ্গে তথা সারা দেশে অনেক মেডিক্যাল কলেজে ৫০ বছর আগেও LMS, LMF এই ধরনের licentiate ডিপ্লোমা দেওয়া হত এবং এই সকল ডাক্তার গ্রামে গ্রামে বহু বছর প্রাথমিক চিকিৎসা যথেষ্ট সুনামের সঙ্গে করেছেন - এবং ডাক্তার হিসেবেও তারা খুব খারাপ ছিলেন না । এই প্রসঙ্গে বলি রাখি যে MB (অধুনা MBBS) সঙ্গে সঙ্গে MF/LMS পাঠ্যক্রমও পড়ানো হত। এই ডিপ্লোমা কিন্তু Paramedic জাতীয় নয় - তার থেকে অনেক এডভ্যান্সড।। Medical Council of India এখনো এই ডিপ্লোমাগুলি কে রিকোজনিশন দেয়ঃhttp://mciindia.org/know/acts/schedule3.htmএইটা দেখার অনুরোধ করলাম ।।
আমার ব্যাক্তিগত পজিশন সুর্য্যবাবুর পক্ষে। আমি নিজের পক্ষের যুক্তিগুলো দিতে চাই ( কেও যেন না ভাবেন, আমি সিপিএম কে সমর্থন করছি। প্রশ্নই ওঠে না। আমি সুধু এই ইস্যুতে সূর্য্যকান্তের পদক্ষেপ সঠিক বলে মনে করছি।)
(১) প্রথম বিরোধি যুক্তি-এরা পর্যাপ্ত শিক্ষার অভাবে ভুল চিকিৎসা করতে পারে।আমি মানতে রাজি না। কারন
১১) খুব বড় চিকিৎসক ও ভুল চিকিৎসা করে। আমার জীবনে যত না ঠিক চিকিৎসা পেয়েছি ভুল চিকিৎসা পেয়েছি তার থেকে অনেক বেশী। এবং তাদের সবাই বিদেশী ডিগ্রিধারি। আমি সব থেকে বেশী ঠিক চিকিৎসা পেয়েছি আমার ফ্যামিলি ফিজিশিয়ানের কাছ থেকে। যার বাংলাদেশ থেকে একটা এম বি বি এস আছে। সবটাই অভিজ্ঞতা এবং বুদ্ধির খেলা।
১২) চিকিৎসাবিদ্যা যতনা পুঁথির-তার থেকেও অনেক অনেক বেশী অভিজ্ঞতার। যেকোন ডাক্তার ও এটা স্বীকার করবে।
১৩) পেটে ব্যাথা, পেট খারাপ, ফ্লু ইত্যাদি হলে আমরাই কি আজকাল ডাক্তারের কাছে যাই? নিজেরদের চিকিৎসা নিজেরাই করছি। কেন? এইসব সাধারন জ্ঞান এখন সবার আছে। কিন্ত চিন্তা করুন এইটুকু জ্ঞান কিন্ত গ্রামের লোকেদের নেই। আমার ডাইরিয়া হলে, আমি জানি ঠিক কি করতে হবে, কি ওশুধ খাব। ডাইরিয়া হলে আমি ডাক্তারের কাছে যায় না। গ্রামে কিন্ত এটা অনেকেই জানে না। শুধু এইটুকু সাহায্য দিতে পারলেই অনেকলোক বেঁচে যাবে।
(২) আমেরিকাতে সি এন আর নার্সরা কিন্ত চিকিৎসা করে। প্রথমে আমাদের নার্সের কাছেই যেতে হয়।সহজ কেস হলে, তিনিই ওশুধ দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। সবকেসে ডাক্তার মোটেও দেখে না। আমেরিকাতে এটা হলে আমাদের দেশে কেন সম্ভব না?
(৩) গ্রামের বাস্তবটাও বুঝতে হবে। একটা গ্রাম থেকে মফঃশহরে আসতে-যেখানে গ্রামীন স্বাস্থ্য কেন্দ্র আছে৪-১০ মাইল পথ। গরুর গাড়িতে চেপে আসে-অধুনা ভটভটি ভ্যান। আমার অভিজ্ঞতা হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে কেসটা খুব বাজে হয়ে গেলে তবে ওরা আসে। গ্রামে হাতের কাছেই ডাক্তার থাকলে-প্রাথমিক চিকিৎসাটা করে দিলে এই সমস্যা হত না। এই জন্যেই আমেরিকাতে প্যারামেডিকরা আছে।
**********লন্ডন থেকে বিকাশ বাবুর সংযোজন**************
পশ্চিম বঙ্গে তথা সারা দেশে অনেক মেডিক্যাল কলেজে ৫০ বছর আগেও LMS, LMF এই ধরনের licentiate ডিপ্লোমা দেওয়া হত এবং এই সকল ডাক্তার গ্রামে গ্রামে বহু বছর প্রাথমিক চিকিৎসা যথেষ্ট সুনামের সঙ্গে করেছেন - এবং ডাক্তার হিসেবেও তারা খুব খারাপ ছিলেন না । এই প্রসঙ্গে বলি রাখি যে MB (অধুনা MBBS) সঙ্গে সঙ্গে MF/LMS পাঠ্যক্রমও পড়ানো হত। এই ডিপ্লোমা কিন্তু Paramedic জাতীয় নয় - তার থেকে অনেক এডভ্যান্সড।। Medical Council of India এখনো এই ডিপ্লোমাগুলি কে রিকোজনিশন দেয়ঃhttp://mciindia.org/know/acts/schedule3.htmএইটা দেখার অনুরোধ করলাম ।।
Sunday, November 22, 2009
বঙ্গের ভ্রান্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে জনচেতনা মঞ্ছ তৈরী করছেন সইফুদ্দিন চৌধুরী, সোমনাথ চ্যাটার্জি
পশ্চিম বঙ্গ ভারতের সব থেকে বেশী হিংসা কবলিত রাজ্য। কাশ্মীর এবং উত্তর-পূর্বের সন্ত্রাসকে হার মানিয়েছে পশ্চিম বঙ্গের রাজনৈতিক সন্ত্রাস। রাজনৈতিক পরিবর্তন এই রাজ্যে অবশ্যই আসছে-কিন্ত আসছে না উন্নয়ন, শান্তি এবং সমৃদ্ধি। অত্যাচারী এবং স্বৈরাচারীরা জামাকাপড় বদলের মতন পার্টি বদল করছে। কিন্ত রাজবেশ পালটালেই কি আর কংসরাজরা বদলাবে? তাই পরিবর্তন আসছে এটা যেমন আশার কথা-কিন্তু ঠিক কি পরিবর্তন আসছে-সেখানে শুধুই একরাশ নৈরাশ্য।
তাই একটি নাগরিক মঞ্ছ পশ্চিম বঙ্গে ভীষনভাবে দরকার। যা হবে অরাজনৈতিক। জনগনের অভাব অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক পার্টি গুলির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারবে। আমাদের রাজ্যের অধিকাংশ লোক আজও দেশ এবং দেশের লোককে পার্টির চেয়ে বেশী ভালবাসে। কিন্ত তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণের কুম্ভীপাকে রাজ্যের জনগনের সামনে অধিকাংস সময় বিকল্প পথ খোলা থাকে না। জনচেতনা মঞ্চ সেই অভাব দূর করবে। রাজ্যকে হিংসামুক্ত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা ভীষন ভাবেই দরকার। পার্টির ওপরে রাজ্য এবং রাজ্যবাসী-এই চেতনার বৃদ্ধি আজ সর্বত্র দরকার পশ্চিম বঙ্গে।
তাই এই নতুন নাগরিক মঞ্চ গড়ার কাজে এগিয়ে এসেছেন সইফুদ্দিন চৌধুরী, প্রাত্তন স্পীকার সোমনাথ চ্যাটার্জি, বিশিষ্ঠ অর্থনীতিবিদ অম্লান দত্ত এবং আরো অনেক বিশিষ্ঠ নাগরিক। খুব শীঘ্রই মঞ্চের কর্মসূচী এবং কমিটি গঠন করা হবে।
আপনারা যারা এই উদ্যোগে যোগ দিতে চান-তারা এই ফোরামে যোগ দিয়ে আপনাদের মতামত জানান।
http://groups.google.com/group/janachetanamancha
তাই একটি নাগরিক মঞ্ছ পশ্চিম বঙ্গে ভীষনভাবে দরকার। যা হবে অরাজনৈতিক। জনগনের অভাব অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক পার্টি গুলির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারবে। আমাদের রাজ্যের অধিকাংশ লোক আজও দেশ এবং দেশের লোককে পার্টির চেয়ে বেশী ভালবাসে। কিন্ত তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণের কুম্ভীপাকে রাজ্যের জনগনের সামনে অধিকাংস সময় বিকল্প পথ খোলা থাকে না। জনচেতনা মঞ্চ সেই অভাব দূর করবে। রাজ্যকে হিংসামুক্ত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা ভীষন ভাবেই দরকার। পার্টির ওপরে রাজ্য এবং রাজ্যবাসী-এই চেতনার বৃদ্ধি আজ সর্বত্র দরকার পশ্চিম বঙ্গে।
তাই এই নতুন নাগরিক মঞ্চ গড়ার কাজে এগিয়ে এসেছেন সইফুদ্দিন চৌধুরী, প্রাত্তন স্পীকার সোমনাথ চ্যাটার্জি, বিশিষ্ঠ অর্থনীতিবিদ অম্লান দত্ত এবং আরো অনেক বিশিষ্ঠ নাগরিক। খুব শীঘ্রই মঞ্চের কর্মসূচী এবং কমিটি গঠন করা হবে।
আপনারা যারা এই উদ্যোগে যোগ দিতে চান-তারা এই ফোরামে যোগ দিয়ে আপনাদের মতামত জানান।
http://groups.google.com/group/janachetanamancha
Tuesday, October 20, 2009
মাওবাদ এবং ভারতের ভবিষ্যত
সাঁকরাইল থানায় যেদুজন পুলিশ মারা গেলেন মাওবাদিদের হামলায় এবং যে ও সি আজ বা কাল কোতল হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন-তাদের মৃত্যুর জন্যে দায়ী কে?
রাষ্ট্র? সিপিম? মাওবাদি?
নানান ফোরামে ঘুরলে দেখা যাবে সিপিএম মাওবাদিদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছড়াচ্ছে-নক্সালরা সিপিম আর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে-দক্ষিন পন্থীরা আবার মাওবাদি এবং সিপিএম উভয়কেই দুষছেন। বৃত্তাকারে স্তূপীকৃত হচ্ছে দোষারোপ। কিন্ত বাস্তবটা কি?
এককচিত্র বা খন্ডচিত্র শুধুই গোলক ধাঁধা। মাওবাদিরা দড়জায় কড়া নাড়ছে এব্যাপারে সন্দেহ নেই। এসব আলোচনাতে যা ভুলে যাওয়া হচ্ছে
(১) ভারতের সবচেয়ে দরিদ্র ক্লিষ্ট জঙ্গল রাজ্যেগুলিতে মাওবাদিদের ঘাঁটি
(২) ২৮ টির মধ্যে ২২ টি রাজ্যে মাওবাদিরা সক্রিয় -এর মধ্যে চারটি রাজ্যে তারাই সমান্তরাল প্রশাসন চালাচ্ছে ( তোলাবাজি বা ট্যাক্সেশন পর্যন্ত)
(৩) সালোয়া জুডুম, সেনাবাহিনী-কোবরা--কোন কিছু দিয়েই তাদের দমানো যাচ্ছে না। তাদের শক্তি বৃদ্ধি হচ্ছে উত্তোরোত্তর।
(৪) গণতান্ত্রিক সিস্টেমের দুর্বলতার তারা সুযোগ নিচ্ছে। পশ্চিম বংগে মাওবাদিরা নন্দীগ্রামে ছিল তৃণমূলের সাথে, গরবেতায় সিপিএমের সাথে-রাজনৈতিক পার্টিগুলি নিজেদের স্বার্থরক্ষার জন্যে এদের ডাকছে-মাওবাদিরা সুযোগের সম্পূর্ণ সদ্বাব্যাবহার করছে।
আমরা বলছি মাওবাদিরা গণতন্ত্রে ফিরছে না কেন? কেন গণতান্ত্রিক পথে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে না?
আসলে এটা ওপর থেকে বলা সহজ -বাস্তবটাও দেখতে হবে। কারা এম এল এ, এম পি হয় এসব জায়গা থেকে? আজই দেখলাম দলিত নেত্রীর এক চ্যালা যে এম পি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিল-পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়েছে ৮ টি ধর্ষনের ঘটনা নথিবদ্ধ হওয়ার পরে! খুন, রাহাজানি, ধর্ষন ইত্যাদি ২২ টা মামলা তার বিরুদ্ধ! জমি দখলের বিরুদ্ধে লড়াই করা পার্টির এম এল এ জমি দখল করেই তিন বছরে ৮০ লাখ টাকার সম্পত্তি বানিয়েছেন!
জমি দখলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে নামা নেতাই যদি ক্ষমতা পাওয়ার পরে জমি দখল করা শুরু করেন-তাহলে কি ভাবে এবং কেন গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করবে মানুষ? নেতা হওয়াটা আজকাল মিডিয়া মঞ্চে অভিণয় করে মানুষকে টুপি পড়িয়ে এম এল এ, এম পি হয়ে গুছিয়ে নেওয়ার সিস্টেম হয়েছে। আপনারাই বুকে হাত দিয়ে বলুন কোন রাজনৈতিক নেতাকে আপনি বিশ্বাস করতে পারেন ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে আপনাদের স্বার্থ রক্ষার জন্যে? দু এক জন এমন থাকলেও পার্টি কি তাকে রাখবে? তাহলে ওই এক বেলা পাতা-ভাত খেয়ে থাকা বনের মানুষ গুলো কাদের বিশ্বাস করবে? রঙ্গমঞ্চের রঙ মাখা অভিনেতাদের ? এ ব্যাপারে ত সবাই সমান। সিপিএমের অনুজ পান্ডে ত শুধু লালগড়ে-চত্রিশগড় মধ্য প্রদেশে অমন অনেক অনেক অনুজ পান্ডে আছে!
এদেরকে গণতন্ত্রে ফিরতে বলাটা প্রহসন। নেতা থেকে অফিসাররা কি তা ওরা দেখেছে-আবার মাওবাদি নেতারা কিভাবে ওদের পাশে নানান ভাবে দাঁড়িয়েছে, সেটাও ওরা জানে। ন্যাড়াদের বেল তলায় বার বার যেতে বলাটা ঠাট্টা করা। চে গুয়েভেরার ওপর একটা ডকুমেন্টারী মনে পড়ছে-চে আর কাস্ত্রো একের পর এক থানা আক্রমন করছেন-আর তত গ্রামের মানুষেরা স্বেচ্ছায় চে র গেরিলা ফোর্সের সাথে যোগ দিচ্ছেন। ভারতের মাওবাদিরাও একই ভাবে এগিয়ে চলেছে। তবে ভারতে গণতন্ত্র আছে এবং কিউবার থেকে ভারত একশোগুন বড়-তাই বাতিস্তুতা সরকারের মতন ভারতের পতন অসম্ভব-কিন্ত ভারতে একটা প্রাক বিপ্লব পরিস্থিতি মাওবাদিরা তৈরী করেছে, তা অস্বীকার করা অসম্ভব।
যদি রাশিয়া , চীন আর কিউবার ইতিহাস সম্পূর্ণ না জানা থাকত-আমি বলতাম মাওবাদিরা এগিয়ে যাক। কিন্ত ইতিহাস এটাও বলে কমিনিউস্ট বিপ্লব এই পচা গণতন্ত্রের চেয়েও আরো ভয়ঙ্কর। এই গনতন্ত্র আর যাইহোক লাখে লাখে মানুষ মারে না-দুর্বল হলেও কিছু পরিবর্তন হয়। আর পৃথিবীর কোন দেশেই কমিনিউজম শোষনের অবসান করে নি-বনিক শ্রেনীর বদলে পার্টির নেতা আর বুরোক্রাটরা শোষকের স্থান গ্রহণ করেছে-যে ব্যাপারের সাথে পশ্চিম বঙ্গের লোকজনের সামান্য পরিচয় হয়েছে। আমাদের গণতন্ত্র যতই বাজে হৌক অতটা বাজে নয় যে পুলিশ স্টেটের ন্যায়, যা খুশি যাকে খুশী মারা যাবে, জেলে ভরা যাবে। সুতরাং আমাদের গনতান্ত্রিক কাঠামোর যে সমস্যা আছে-গণতন্ত্রের যে সমস্যা আছে-যার বিরুদ্ধে মাওবাদিরা লড়াই করছে-সেই গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ব্যাপক ভাবে সংস্কার করতে হবে।
কিন্ত কেও যদি মাওবাদিদের বিরুদ্ধে সিপিএমের মায়াকান্না দেখে পুলকিত হন ভুল করবেন। সিপিএমের আরাধ্য দেবতা লেনিন রেড টেররের সময় গনতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রীদের ঠিক এই ভাবেই পিঁপড়ের মতন মেরেছিলেন যেভাবে মাওবাদিরা সিপিএম মারছে। সুতরাং সিপিএমের তাত্ত্বিক ভিত্তি ভাওতাবাজি দুনাম্বারীর ওপর দাঁড়িয়ে আছে-মাওবাদিদের মধ্যে কিন্তু এই দ্বিচারিতা নেই। তারা লেনিনের গনতান্ত্রিক এবং দক্ষিন পন্থীদের খুন করে লাল সন্ত্রাসের সাহায্যে ক্ষমতা দখলের পথই নিয়েছে। সিপিএম মুখে লেনিনের কথা বলেলেও, আসলেই একটি বুর্জোয়া পার্টি। স্টালিন দুবার মেনশেভিকদের সাথে হাত মিলিয়ে জারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চেয়েছিলেন-লেনিন দুবারই না করে দিয়েছিলেন। লেনিন গনতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রীদের সাথে কোনদিন হাত মেলান নি-এবং ১৯১৮ সালে তাদের মেরেই ফেললেন বা পিটয়ে বলশেভিক বানালেন। মাওবাদিরা সিপিএম পিটিয়ে কিন্ত ঠিক এই কাজটাই করছে। সুতরাং সিপিএম যখই মায়াকান্না কাঁদুক, কমিনিউজমের সামান্য ইতিহাস বা তত্ত্ব যাদের জানা আছে, তারা নিশ্চিত ভাবেই জানবেন মাওবাদিরাই আসল লেনিনবাদি দল-সিপিম হচ্ছে একটি বিশুদ্ধ হিপোক্রিট গজকচ্ছপ। তাত্ত্বিক ভিত্তি এবং ক্যাডার বেসেও। লেনিনে এরা সামনে দিকে মালা পড়িয়ে পেছনে পেচ্ছাব করছিল-এখন আসল লেনিনবাদিদের হাতে মার খেয়ে, আসল নকলটা সহজেই বেড়িয়ে আসবে।
মাওবাদিদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান যেমন হওয়া দরকার-ঠিক তেমনই আমাদের গনতন্তের দুর্বলতা বুঝতে, মাওবাদি আন্দোলনের দরকার ছিল। শুধু সেনা অভিযান করে এই আন্দোলন রোখা যাবে না। ভারতীয় গনতন্তের আমূল সংস্কার সাধন করতে হবে, যাতে একদম পিছিয়ে পড়া লোকেদের গলাও দিল্লীতে পৌঁছাতে পারে। প্রথম কাজটা যদি সরকার করে-দ্বিতীয় কাজটা আমাদের।
রাষ্ট্র? সিপিম? মাওবাদি?
নানান ফোরামে ঘুরলে দেখা যাবে সিপিএম মাওবাদিদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছড়াচ্ছে-নক্সালরা সিপিম আর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে-দক্ষিন পন্থীরা আবার মাওবাদি এবং সিপিএম উভয়কেই দুষছেন। বৃত্তাকারে স্তূপীকৃত হচ্ছে দোষারোপ। কিন্ত বাস্তবটা কি?
এককচিত্র বা খন্ডচিত্র শুধুই গোলক ধাঁধা। মাওবাদিরা দড়জায় কড়া নাড়ছে এব্যাপারে সন্দেহ নেই। এসব আলোচনাতে যা ভুলে যাওয়া হচ্ছে
(১) ভারতের সবচেয়ে দরিদ্র ক্লিষ্ট জঙ্গল রাজ্যেগুলিতে মাওবাদিদের ঘাঁটি
(২) ২৮ টির মধ্যে ২২ টি রাজ্যে মাওবাদিরা সক্রিয় -এর মধ্যে চারটি রাজ্যে তারাই সমান্তরাল প্রশাসন চালাচ্ছে ( তোলাবাজি বা ট্যাক্সেশন পর্যন্ত)
(৩) সালোয়া জুডুম, সেনাবাহিনী-কোবরা--কোন কিছু দিয়েই তাদের দমানো যাচ্ছে না। তাদের শক্তি বৃদ্ধি হচ্ছে উত্তোরোত্তর।
(৪) গণতান্ত্রিক সিস্টেমের দুর্বলতার তারা সুযোগ নিচ্ছে। পশ্চিম বংগে মাওবাদিরা নন্দীগ্রামে ছিল তৃণমূলের সাথে, গরবেতায় সিপিএমের সাথে-রাজনৈতিক পার্টিগুলি নিজেদের স্বার্থরক্ষার জন্যে এদের ডাকছে-মাওবাদিরা সুযোগের সম্পূর্ণ সদ্বাব্যাবহার করছে।
আমরা বলছি মাওবাদিরা গণতন্ত্রে ফিরছে না কেন? কেন গণতান্ত্রিক পথে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে না?
আসলে এটা ওপর থেকে বলা সহজ -বাস্তবটাও দেখতে হবে। কারা এম এল এ, এম পি হয় এসব জায়গা থেকে? আজই দেখলাম দলিত নেত্রীর এক চ্যালা যে এম পি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিল-পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়েছে ৮ টি ধর্ষনের ঘটনা নথিবদ্ধ হওয়ার পরে! খুন, রাহাজানি, ধর্ষন ইত্যাদি ২২ টা মামলা তার বিরুদ্ধ! জমি দখলের বিরুদ্ধে লড়াই করা পার্টির এম এল এ জমি দখল করেই তিন বছরে ৮০ লাখ টাকার সম্পত্তি বানিয়েছেন!
জমি দখলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে নামা নেতাই যদি ক্ষমতা পাওয়ার পরে জমি দখল করা শুরু করেন-তাহলে কি ভাবে এবং কেন গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করবে মানুষ? নেতা হওয়াটা আজকাল মিডিয়া মঞ্চে অভিণয় করে মানুষকে টুপি পড়িয়ে এম এল এ, এম পি হয়ে গুছিয়ে নেওয়ার সিস্টেম হয়েছে। আপনারাই বুকে হাত দিয়ে বলুন কোন রাজনৈতিক নেতাকে আপনি বিশ্বাস করতে পারেন ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে আপনাদের স্বার্থ রক্ষার জন্যে? দু এক জন এমন থাকলেও পার্টি কি তাকে রাখবে? তাহলে ওই এক বেলা পাতা-ভাত খেয়ে থাকা বনের মানুষ গুলো কাদের বিশ্বাস করবে? রঙ্গমঞ্চের রঙ মাখা অভিনেতাদের ? এ ব্যাপারে ত সবাই সমান। সিপিএমের অনুজ পান্ডে ত শুধু লালগড়ে-চত্রিশগড় মধ্য প্রদেশে অমন অনেক অনেক অনুজ পান্ডে আছে!
এদেরকে গণতন্ত্রে ফিরতে বলাটা প্রহসন। নেতা থেকে অফিসাররা কি তা ওরা দেখেছে-আবার মাওবাদি নেতারা কিভাবে ওদের পাশে নানান ভাবে দাঁড়িয়েছে, সেটাও ওরা জানে। ন্যাড়াদের বেল তলায় বার বার যেতে বলাটা ঠাট্টা করা। চে গুয়েভেরার ওপর একটা ডকুমেন্টারী মনে পড়ছে-চে আর কাস্ত্রো একের পর এক থানা আক্রমন করছেন-আর তত গ্রামের মানুষেরা স্বেচ্ছায় চে র গেরিলা ফোর্সের সাথে যোগ দিচ্ছেন। ভারতের মাওবাদিরাও একই ভাবে এগিয়ে চলেছে। তবে ভারতে গণতন্ত্র আছে এবং কিউবার থেকে ভারত একশোগুন বড়-তাই বাতিস্তুতা সরকারের মতন ভারতের পতন অসম্ভব-কিন্ত ভারতে একটা প্রাক বিপ্লব পরিস্থিতি মাওবাদিরা তৈরী করেছে, তা অস্বীকার করা অসম্ভব।
যদি রাশিয়া , চীন আর কিউবার ইতিহাস সম্পূর্ণ না জানা থাকত-আমি বলতাম মাওবাদিরা এগিয়ে যাক। কিন্ত ইতিহাস এটাও বলে কমিনিউস্ট বিপ্লব এই পচা গণতন্ত্রের চেয়েও আরো ভয়ঙ্কর। এই গনতন্ত্র আর যাইহোক লাখে লাখে মানুষ মারে না-দুর্বল হলেও কিছু পরিবর্তন হয়। আর পৃথিবীর কোন দেশেই কমিনিউজম শোষনের অবসান করে নি-বনিক শ্রেনীর বদলে পার্টির নেতা আর বুরোক্রাটরা শোষকের স্থান গ্রহণ করেছে-যে ব্যাপারের সাথে পশ্চিম বঙ্গের লোকজনের সামান্য পরিচয় হয়েছে। আমাদের গণতন্ত্র যতই বাজে হৌক অতটা বাজে নয় যে পুলিশ স্টেটের ন্যায়, যা খুশি যাকে খুশী মারা যাবে, জেলে ভরা যাবে। সুতরাং আমাদের গনতান্ত্রিক কাঠামোর যে সমস্যা আছে-গণতন্ত্রের যে সমস্যা আছে-যার বিরুদ্ধে মাওবাদিরা লড়াই করছে-সেই গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ব্যাপক ভাবে সংস্কার করতে হবে।
কিন্ত কেও যদি মাওবাদিদের বিরুদ্ধে সিপিএমের মায়াকান্না দেখে পুলকিত হন ভুল করবেন। সিপিএমের আরাধ্য দেবতা লেনিন রেড টেররের সময় গনতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রীদের ঠিক এই ভাবেই পিঁপড়ের মতন মেরেছিলেন যেভাবে মাওবাদিরা সিপিএম মারছে। সুতরাং সিপিএমের তাত্ত্বিক ভিত্তি ভাওতাবাজি দুনাম্বারীর ওপর দাঁড়িয়ে আছে-মাওবাদিদের মধ্যে কিন্তু এই দ্বিচারিতা নেই। তারা লেনিনের গনতান্ত্রিক এবং দক্ষিন পন্থীদের খুন করে লাল সন্ত্রাসের সাহায্যে ক্ষমতা দখলের পথই নিয়েছে। সিপিএম মুখে লেনিনের কথা বলেলেও, আসলেই একটি বুর্জোয়া পার্টি। স্টালিন দুবার মেনশেভিকদের সাথে হাত মিলিয়ে জারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চেয়েছিলেন-লেনিন দুবারই না করে দিয়েছিলেন। লেনিন গনতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রীদের সাথে কোনদিন হাত মেলান নি-এবং ১৯১৮ সালে তাদের মেরেই ফেললেন বা পিটয়ে বলশেভিক বানালেন। মাওবাদিরা সিপিএম পিটিয়ে কিন্ত ঠিক এই কাজটাই করছে। সুতরাং সিপিএম যখই মায়াকান্না কাঁদুক, কমিনিউজমের সামান্য ইতিহাস বা তত্ত্ব যাদের জানা আছে, তারা নিশ্চিত ভাবেই জানবেন মাওবাদিরাই আসল লেনিনবাদি দল-সিপিম হচ্ছে একটি বিশুদ্ধ হিপোক্রিট গজকচ্ছপ। তাত্ত্বিক ভিত্তি এবং ক্যাডার বেসেও। লেনিনে এরা সামনে দিকে মালা পড়িয়ে পেছনে পেচ্ছাব করছিল-এখন আসল লেনিনবাদিদের হাতে মার খেয়ে, আসল নকলটা সহজেই বেড়িয়ে আসবে।
মাওবাদিদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান যেমন হওয়া দরকার-ঠিক তেমনই আমাদের গনতন্তের দুর্বলতা বুঝতে, মাওবাদি আন্দোলনের দরকার ছিল। শুধু সেনা অভিযান করে এই আন্দোলন রোখা যাবে না। ভারতীয় গনতন্তের আমূল সংস্কার সাধন করতে হবে, যাতে একদম পিছিয়ে পড়া লোকেদের গলাও দিল্লীতে পৌঁছাতে পারে। প্রথম কাজটা যদি সরকার করে-দ্বিতীয় কাজটা আমাদের।
Subscribe to:
Posts (Atom)